Story

জীবন যুদ্ধের নতুন লড়াই, সুদূর উড়িষ্যা থেকে কলকাতায় গাছের নিচে থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করেই মায়ের চিকিৎসার অর্থ যোগাচ্ছেন তিনি!

শুরু নতুন জীবন যুদ্ধের লড়াই। মা অসুস্থ। ধরা পড়েছে টিউমার। চিকিৎসার সময় বেশ দীর্ঘ। সেই চিকিৎসার খরচ ও বহুল। মাকে বাঁচাতে সুদূর মালদা থেকে ছুটে এসেছেন এক পরিবার।

মাকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়েছেন ছেলে। তার মায়ের নতুন জীবনের আশায় দিন গুনছেন তিনি। তবে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করালেও হাতে নেই কাজ। জমানো সমস্ত পুঁজি প্রায় শেষের দিকে।

ছেলে মিঠুন বসাক, পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। বাড়ি সুদূর মালদায় ভুতনির চড়ে। তবে কলকাতায় এসে নিজের নতুন কাজ এবং নতুন আস্তানার জুঠিয়ে নিয়েছেন তিনি। মায়ের সাথে বউ-বাচ্চা কেও নিয়ে এসেছেন এই শহরে।

তাদের পাকাপাকিভাবে কোন আস্তানা না থাকলে তাদের এখন নতুন আস্তানার ঠিকানা খোলা আকাশের নিচে গাছের তলায়। ইট গাঁথছেন, সিমেন্টের প্রলেপ লাগাচ্ছেন কাজ মিটে গেলেই ফিরে যাচ্ছেন তার নতুন সংসারে।

মিঠুন ওড়িশায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। কিন্তু অতিমারি পরিস্থিতি কেড়ে নিয়েছে তার স্থায়ী কাজের ঠিকানা। কাজের ঠিকানা হারিয়ে যেতে তিনি ফিরে আসেন তার বাড়ি মালদায়। পেটে টিউমার দেখা দেওয়ার সাথে সাথে করোনার উপসর্গও দেখা দেয় তার মায়ের।

১৪ দিন আগেই কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়েছেন তার মাকে। কিভাবে কাটাবেন বাকি দিনগুলো! এই আতঙ্ক যখন তাকে গ্রাস করছে ঠিক সেই সময়ই তার সামনে খুলে গেল নতুন এক কাজের ঠিকানা। মেডিকেল কলেজ চত্বরে অক্সিজেন কনসেনট্রেটের বসানোর কাজ চলছে। সেখানেই একটা কাজ জুটিয়ে নিয়েছেন মিঠুন।

সংবাদমাধ্যমকে মিঠুনের স্ত্রী জানিয়েছেন,”গরিব মানুষ, কাজ না করলে খেতে মিলবে বসে বসে!” এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন তাদের আরো তিন সন্তানকে রেখে এসেছেন বাড়িতে শুধুমাত্র একজনকে নিয়ে এসেছেন তিনি। মিঠুনের এখন একটাই লক্ষ্য এখান থেকে খেতে তিনি যা উপার্জন করবেন তা নিজের পেট চালানো এবং তার সাথে সাথে মায়ের চিকিৎসা চালানোর কাজে লাগবে সেটা।

Back to top button