ছেলে মাকে ডেকে অনুরোধ করল, মা কথা রাখল ছেলের

যে কোন মায়ের কাছেই তার সন্তান পৃথিবীর সবার আগে। সন্তান হলো মায়েদের কাছে জীবন পাওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার। সন্তানকে না দেখে মা যেমন থাকতে পারে না তেমনই মাকে ছাড়া সন্তানেরও চলেনা।

ছেলেবেলায় যে কোন সন্তান সবথেকে বেশি সময় তার মায়ের সাথেই কাটান। ছেলেমেয়েকে মানুষের মত মানুষ করে তোলাই মায়েদের একমাত্র উদ্দেশ্য।

অবশ্য বড় হলে প্রত্যেকেরই একটা নিজস্ব জগৎ তৈরি হয়। কিন্তু এখন এমন এক ঘটনা সম্পর্কে জানব যা বর্তমান যুগে সত্যিই এক বিরল ঘটনা। এই ঘটনা শুনে পাঠকরা হকচকিয়ে যেতে পারেন।

ছেলে তোর মাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করে সে তাকে একটা অনুরোধ করতে চায় এবং মা তাতে সম্মতি জানান। এরপর ছেলে তার মাকে বলেন তার মায়ের শরীর খুব একটা ভালো নেই।

ডায়বেটিস, হার্টের সমস্যা, হারের সমস্যা রয়েছে তার মায়ের। ছেলে বলেন তার এই ছোট ঘরে হয়তো তার মায়ের থাকতে অসুবিধা হচ্ছে। ছেলে আর তার স্ত্রী প্রতিদিনই যে যার নিজের কাজে বেরিয়ে যান সারাদিন বাড়িতে তোর মা একাই থাকেন।

আর সারাদিন তার মায়ের সাথে কথা বলার কিংবা তার মাকে দেখাশোনা করারও কেউ নেই। এই জন্যই সে তার মাকে বৃদ্ধাশ্রম এর স্পেশাল ব্রাঞ্চে রেখে আসতে চান।

ছেলের এমন কথা প্রত্যুত্তরে মা জানান ছেলে যা চায় তাই হবে। কথামতো পরের দিন মায়ের সমস্ত দরকারি জিনিস গাড়িতে তুলে মাকে নিয়ে ছেলে রওনা দেয় বৃদ্ধাশ্রম এর দিকে।

এরপর মা ছেলেকে জিজ্ঞাসা করে সে তাকে বৃদ্ধাশ্রমে দেখতে যাবে কিনা? আর যদি সম্ভব হয় তাহলে তাকে যেন ছেলে একটা ফোন কিনে দেয়। ছেলে এর উত্তরে বলেন বৃদ্ধাশ্রমে ফোন আছে।

এরপর একটা পাঁচতলা বাড়ির সামনে ছেলে গাড়ি থামিয়ে তার মাকে জানায় তারা বৃদ্ধাশ্রম পৌঁছে গেছে। ছেলে জানায় সে তার মায়ের পছন্দ মত দক্ষিণের একটা ঘরই পছন্দ করেছে তার জন্য।

এরপর বৃদ্ধাশ্রমে প্রবেশ করে তিনি চমকে যান। তিনি দেখেন তার নাতি নাতনি বৌমা মেয়ে জামাই সকলে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। আর তারা তাদের সঙ্গে করে একটা বড় কেকো নিয়ে এসেছে।

সে তার জন্মদিনে এমন এক মূল্যবান উপহার পাবেন ভাবতেই পারেননি। এই দৃশ্য দেখে মা কেঁদে ফেলেন এবং তোর মাকে কাঁদতে দেখে ছেলে জানায় সে তার মাকে কোন বৃদ্ধাশ্রমের নিয়ে আসেনি। এটা তাদের নিজেদের বাড়ি। ছেলে ইউ জানাই সে তার বাড়ির নাম তার বাবার নামে রেখেছে।

মা দিনের শেষে তার ছেলেকে ডেকে বলেন সে যদি তাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসতো তাহলে সে সেদিনই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করত। এই কথা শুনে ছেলে জানায় সে আগের দিন রাতেই বিষের কৌটো থেকে বিষ সরিয়ে এমনি ওষুধ রেখে দিয়েছিল। এরপর এইটুকু বলাই যায় যে মা সত্যিই তার ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করতে পেরেছেন।

এই পুরো ঘটনাটা শুনলে মনে হবে এমন ঘটনা যেন বার বার ঘটে। মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কগুলো যেন এমনি থাকে নির্ভেজাল।