অন্যের বাড়ি পরিচারিকার কাজ করে মেয়েকে পড়াশোনা শিখিয়ে ডাক্তার বানালেন মা! তারপর মেয়ে ডাক্তার হয়ে যা করলো, চোখে জল এনে দেবে

আমরা সবাই জানি জীবনে কিছু পেতে গেলে প্রয়োজন পরিশ্রম অধ্যবসায়। তবেই জীবনে সঠিকভাবে কিছু অর্জন করা সম্ভব। ঠিক যেমন অনিতা ও তার মা এবং তার ছোট ভাই সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে।

কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের জোরে নিজের ও নিজের পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন অনিতার মা। তিন ভাইবোনের মধ্যে অনিতা সবার বড়। ১৪ বছর আগে বিনাচিকিৎসায় নিজের বাবাকে হারিয়েছে অনিতা।

তখন থেকে মনে জেদ নিয়ে বসে সে ডাক্তার হবে। বাবা মারা যাওয়ার পর একমাত্র আয়ের সম্বল টুকু শেষ হয়ে যায়। তিন ছেলে মেয়েকে মানুষ করার জন্য কঠিন জীবন যুদ্ধে নেমে পড়েন অনিতার মা।

মেয়ের পড়াশোনার যাতে কোনরকম ক্ষতি না হয় সেদিকে নজর দেয়ার জন্য অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে শুরু করেন তিনি। দিদির স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য ছোট ভাইও নেমে পরে কাজে।

দুই মেয়েকে সঠিক শিক্ষার আলো দেখানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে থাকেন সুমিত্রা দেবী। মাধ্যমিকে অনিতা ৭৫ শতাংশ নম্বরে পাশ করে তারপর সে তার স্বপ্ন পূরণের জন্য সাই-ফাই মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয় এবং এমবিবিএস নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে।

মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য সুমিত্রা দেবী একটি সবজির দোকান দেন। যার থেকে দিনে ৩০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত আয় হতে শুরু করে। সুমিত্রা দেবীর এই কঠিন যুদ্ধের সর্বদা পাশে ছিলেন তার ছেলে।

মেয়েদের পড়াশুনা যাতে বন্ধ না হয় তার জন্য বাসস্ট্যান্ডে জল বিক্রি করেছেন সুমিত্রা দেবী। নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনিতাও ছোটখাটো কিছু করে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল।

ধীরে ধীরে নিজের পড়াশোনা শেষ করে বিশাল বড় এক ডাক্তার হয়ে যায় অনিতা। তার জীবনের সাফল্যের জন্য সে সর্বদাই দায়ী করে তার মা ও তার ছোট ভাইকে। সুমিত্রা দেবী বরাবর জানতেন পড়াশোনা ছাড়া তার মেয়েদের জীবনে স্বাবলম্বী হওয়ার কোনো রকম সুযোগ পাওয়া সম্ভব নয়।

মেয়েদের স্বাবলম্বী করার জন্য আত্মীয়-স্বজনদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন সুমিত্রা দেবী। ছোট মেয়েকে পড়ার জন্য কানপুর পাঠিয়ে দেন তিনি।

অনিতা সবসময়ই বলে যে তার বাবা মারা যাওয়ার পর তার বাবার অভাব কখনো তার ভাই ও তার মা তাকে বুঝতে দেয়নি। এমনকি তার পড়াশোনা করার স্বপ্নকেও নিভতে দেয়নি তারা। তাদের কঠিন পরিশ্রমেই অনিতা আজ ডাক্তার হতে পেরেছে।

অনিতা আরো বলেছেন, তার বাবা বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ার কারণেই সে ডাক্তার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাই সে শপথ নিয়েছে যে আর কোন মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবেন।

সে আরো বলেছে, সে গ্রামাঞ্চলের গিয়ে বিনা চিকিৎসায় মানুষদের চিকিৎসা করবে। যাতে আর কোনদিনও কোন মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা না যান।