মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছা থেকে নজির গড়ছে মধ্যমগ্রামের ‘ফিনিক্স’! জানুন তাদের গল্প

কথায় বলে মানুষ একসাথে এগিয়ে এলে সবকিছু সম্ভব! আর তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ মধ্যমগ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ফিনিক্স’। ১৯ জন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া একসাথে জোট বেঁধেছিল ২০১৯ সালে। আজ তারাই হয়ে উঠেছে ৬২ জনের একটি পরিবার।

ফিনিক্সের সেক্রেটারি বিক্রমজিৎ দে ‘কোলকাতা জার্নাল’কে জানান ২০১৯ সালে বারাসাতে না খেতে পেয়ে যখন বাবা-মা ও মেয়ের একটি পরিবার কোর্টের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছিল, সেই ঘটনা মনে ছাপ ফেলে গেছিল ফিনিক্সের সদস্যদের। তখনই সাধ্যমত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তারা। এখনো পর্যন্ত ‘ফিনিক্স’ আয়োজন করেছে একাধিক ক্যাম্পেনের।

শতাধিক অনাথ শিশুর দায়িত্ব, হেদুয়া অঞ্চলের অসংখ্য শিশুদের খাবারের দায়ভার নেওয়া থেকে শুরু করে ‘ইয়াস’ ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সমস্ত ক্ষেত্রেই সাধ্যমত ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ফিনিক্সের যোদ্ধারা। পাশাপাশি এখনো পর্যন্ত সংগঠনের গায়ে লাগতে দেননি কোনো রাজনৈতিক রং। বরং ‘ই-ম্যাগাজিন’ বিক্রি করে, ‘শিশু উৎসব’ এর আয়োজনের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন নিজেদের ফান্ড। পাশাপাশি নিজেদের পকেট থেকে নিয়মিত দান করে যাচ্ছেন ফিনিক্স এর সদস্যরা।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়েও থেমে নেই ফিনিক্স। বারাসাত-মধ্যমগ্রাম-বিটি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় তারা প্রতিনিয়ত কাজ করছে করোনা আক্রান্ত পরিবারের জন্যে। ওষুধ থেকে খাবার, একটা ফোনের মাধ্যমেই করোনা আক্রান্তের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে ফিনিক্সের সাহায্যের হাত।

বিক্রমজিৎ জানান তাদের সংগঠনের কাজের পদ্ধতি বেশ আলাদা। কোনো অঞ্চলে সাহায্য পাঠানোর আগে সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে ফিনিক্সের সদস্যরা মিশে যান সেই এলাকার মানুষের সাথে। খুঁটিয়ে জেনে নেন তাদের পরিস্থিতি। তারপরই তৎপরতার সাথে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা যায় তাদের।

আপাতত ফিনিক্স এগোচ্ছে বেশ বড় দুটো লক্ষ্য নিয়ে। তারা মুর্শিদাবাদে আদিবাসী সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্যে চাইছে একটা স্কুল তৈরি করতে। পাশাপাশি তাদের চোখে স্বপ্ন একটি ‘মাইলস্টোন’ প্রজেক্টের যেখানে গ্রামের মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার মাধ্যমে উন্নতিসাধন করা হবে গোটা গ্রামের। বিক্রমজিৎ জানান যেহেতু মূলত পড়ুয়ারাই গ্রুপের সদস্য, তাই অনেকক্ষেত্রেই স্বপ্নপূরণ এর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থনৈতিক সমস্যা। তবে তাতে থমকে না গিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন উদ্যমে কাজ করে যাচ্ছে ‘মধ্যমগ্রামের ফিনিক্স’।