বাবা সিঙাড়া বিক্রি করতেন, গরিব বাড়ির মেয়ে নেহা কক্কর আজ ৩৬ কোটি টাকার মালিক

নেহা কক্কর বর্তমানে বলিউডের প্রথম সারির গায়িকা। এখনকার যুগের ছেলে-মেয়েদের কাছে তার গান বাম্পার হিট। নেহা কক্কর রোম্যান্টিক গান, ইমোশনাল গান, পার্টির গান ইত্যাদি সব ধরনের গানই তিনি গাইতে পারেন। বর্তমান যুগের ছেলে-মেয়েদের পছন্দের গানের তালিকায় রয়েছে নেহা কক্করের বহু গান।

বলিউডের নেহা কক্কর হয়ে ওঠার রাস্তা খুব একটা সহজ ছিল না। অনেক ওঠা পড়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। খুব গরিব ঘরের মেয়ে ছিলেন নেহা কক্কর। আগে তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তার বড় হয়ে ওঠার অদম্য ইচ্ছাই তাকে আজ সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।

নেহা কক্করের জন্ম উত্তরাখণ্ডে। বেশ গরিব পরিবার থেকে উঠে এসেছেন নেহা। রবিবার ৬-ই জুন জন্মদিন ছিল নেহা কক্করের। ৩৩-এ পা দিলেন অভিনেত্রী। আগে নেহা কক্কারের বাবা ঋষিকেশ কক্কর স্কুল ও কলেজের বাইরে সিঙাড়া বিক্রি করতেন।

আর তার মা নিকি কক্কর ছিলেন গৃহবধূ। উত্তরাখণ্ডে থাকাকালীন নেহা ও তার গোটা পরিবার একটি ঘরের মধ্যেই থাকতো। ওই ঘরের মধ্যেই একটা টেবিলের ওপর রান্নাবান্না হতো।

নেহা কক্কর যখন গান গাওয়া শুরু করেন, তখন তার মাত্র ৪ বছর বয়স। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভজন, আরতির গান গাইতেন নেহা কক্কর। পরে গান নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য তিনি তার পরিবারকে নিয়ে দিল্লি চলে আসেন।

নেহা কক্কররা তিন ভাই বোন। নেহার দিদি সোনু কক্কর ও ভাই টনি কক্কর। তারাও গান করেন। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের গান গেয়ে খুব সামান্য টাকা আয় করতেন নেহা কক্কর ও তার ভাই টনি কক্কর।

পরবর্তীকালে ইন্ডিয়ান আইডল টু-তে নেহা কক্কর প্রতিযোগী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তবে তিনি সেই প্রতিযোগিতায় জিৎতে পারেননি এবং তাকে এটাও শুনতে হয় যে সে গানটা ভালো করে গাইতে পারে না। এর পরে তিনি নিজেকে প্রমাণ করে দেখেছেন। তার গলার টেক্সচারটাই অন্যরকম ছিল।

তাই তার কাছে ওই সময় থেকেই গান গাওয়ার জন্য বহু অফার আসতে থাকে। তারপর থেকে নেহা কক্করকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি একটার পর একটা অফার পেতে থাকেন। তিনি অনেক বড় বড় কৃতিদের সঙ্গেও কাজ করেছেন।

সম্প্রতি তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তিনি একটি রিয়েলিটি শোতে মূল বিচারক হিসাবে আছে। উত্তরাখণ্ডের এক কামরার ঘরে থাকা ওই মেয়েটি আজ বলিউডের প্রথম সারির গায়িকা।