Story

সত্যজিৎ রায়ের চোখে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ ‘মছলিবাবা’, মনু মুখার্জ্জীকে নিজে ডেকে ছবিতে পাঠ দিয়েছিলেন পরিচালক, অথচ বাংলা ইন্ডাস্ট্রি ভুলেই গেল মনু মুখোপাধ্যায়কে

মনু মুখোপাধ্যায় বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ছিলেন এক উজ্জ্বল নাম। ১৯৩০-এর মার্চ মাসে জন্মেছিলেন তিনি। ছোট থেকেই অভিনয় জগৎ তাকে আকর্ষণ করতো। কেরিয়ারের শুরুতে থিয়েটার করতেন অভিনেতা। থিয়েটারই তার অভিনয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল। এরপর বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচালক সত্যজিৎ রায় নিজে মনু মুখোপাধ্যায়কে ডেকে ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’এ মছলিবাবার চরিত্রে পাঠ দিয়েছিলেন তাকে।

এই প্রসঙ্গে অভিনেতা নিজেই জানিয়েছিলেন, তখন মিনার্ভায় থিয়েটার করতেন তিনি। ল্যান্ডফোনে ফোন ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ ছবির সহযোগী পরিচালক তাকে জানিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায় তার সাথে দেখা করতে চান। সেই মতো পরেরদিনই বিশপ লেফ্রয় রোডের বাড়িতে পরিচালকের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। উনি তাকে ভালো করে দেখেই নির্দেশ দিয়েছিলেন মেকআপ করার জন্য। দেড়ঘন্টা ধরে মেকআপ আর্টিস্ট মেকআপ করেছিল তার। ঠিক তখনই রুমে এসে পৌঁছেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁরও একপ্রস্থ মেকআপ হয়েছিল বলেই জানা গিয়েছে। সত্যজিৎ রায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “মনুকে ঠিক লাগছে?” সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এককথায় হ্যাঁ বলেছিলেন। তারপরেই মছলিবাবার চরিত্রে মনু মুখোপাধ্যায়কে কাস্ট করেছিলেন সত্যজিৎ রায়।

এই প্রসঙ্গে অভিনেতা আরো জানান, ডিসেম্বর মাসে বেনারসে এই ছবির শুটিং হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি শ্যুটিং নিয়ে বিশেষ কিছুই চিন্তা করতেন না, কারণ সব চিন্তা মাথায় নিয়ে নিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়। তিনি সেই সময়ে তাকে ডেকে বলেছিলেন, “মনু, শট কিন্তু একেবারে ওকে চাই। না হলে তোমাকে গঙ্গায় আবার ডুবতে হবে।” সেই শট এক টেকেই ওকে হয়েছিল জানিয়েছিলেন অভিনেতা। শট শেষেই সত্যজিৎ রায় নিজের গায়ের চাদর জড়িয়ে দিয়েছিলেন মনু মুখোপাধ্যায়ের গায়ে, এমনটাই জানিয়েছেলেন অভিনেতা।

অভিনেতা বলেছিলেন, মছলিবাবার চরিত্র তার সবথেকে পছন্দের চরিত্রের মধ্যে একটি। তিনি খুব অদ্ভুত ভাবে হঠাৎ করে এই চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন। মেকআপ করার পর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সাথে তার মুখের মিল থাকার কারণেই এই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি, তা তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন। তিনি নিজের অভিনয় জীবনে বহু পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তবে সত্যজিৎ রায়ের মতো আন্তরিকতা কারোর মধ্যে দেখেননি তিনি।

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। নিঃসন্দেহে তিনি একজন ভালো অভিনেতা ছিলেন। তার মধ্যে এক সুদক্ষ শৈল্পিক মনোভাব বর্তমান ছিল। তবে এই অভিনেতা গতবছর ডিসেম্বর মাসে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৯০।

Back to top button