‘হারতে না, দৌড়াতে এসেছি’! লকডাউনে সংসার চালাতে বাবার ফুচকার ব্যবসার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিলেন গ্র্যাজুয়েট যুবক

রাজ্য জুড়ে চলছে প্রায় এক মাসের লকডাউন। গত বছরের মতো এ বছরও কাজ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বিশেষ করে বেসরকারি ক্ষেত্রে যারা চাকরি করেন তাদের অনেকেরই চলে গেছে কাজ। তাই সংসার চালাতে অনেককেই শুরু করতে হচ্ছে নতুন ব্যবসা।

তেমনি লকডাউনে কাজ চলে যাওয়ায় সংসার চালাতে বাবার ফুচকার ব্যবসা নিজের কাঁধে তুলে নিলেন ব্যারাকপুরের যুবক রাজেশ দেবনাথ। তার বাবা সুমিত দেবনাথ এর ছিল ফুচকার ব্যবসা।

ভয়ঙ্কর অনটনের মধ্যে দিয়ে দিন কাটিয়েছেন তারা। কিন্তু মাধ্যমিকে ৬৬% উচ্চ মাধ্যমিকে ৭০% এবং গ্রাজুয়েশনে ৫২% নাম্বার পাওয়া রাজেশ একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ পেয়েছিলেন। পাশাপাশি তার ভাই এই মুহূর্তে পলিটেকনিক পড়ছেন।

যে মুহূর্তে তারা ভেবেছিলেন আর্থিক অনটনের দিনকে পিছনে ফেলে এবার একটু সুখের মুখ দেখতে পাবেন ঠিক সে সময়ই লকডাউনের কারণে চলে যায় রাজেশের চাকরি।

তবে হাল ছাড়েননি রাজেশ। বাবার ফুচকার ব্যবসা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চালু করেছেন ফুচকা ডেলিভারিও। পাশাপাশি যোগ করেছেন চিকেন ফুচকার মত বেশ কিছু নতুন রেসিপি তার তালিকায়।

এই মুহূর্তে পলতা এবং ব্যারাকপুর জুড়ে চালাচ্ছেন রাজেশ তার ব্যবসা। বিয়ে বাড়িতে ফুচকা দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে হোম ডেলিভারিও করছেন তিনি। পাশাপাশি নিচ্ছেন ফুচকার অনলাইন অর্ডারও।

গ্রাজুয়েশন করে যখন তিনি নিচ্ছিলেন সরকারি চাকরির প্রস্তুতি, সেই মুহূর্তে এই ধরনের কাজের ফলে অনেকেই তাকে বিদ্রুপ করেছেন। তবে রাজেশের কাছে কোনো কাজই ছোট নয়। তিনি দৃঢ় গলায় জানাচ্ছেন তিনি হেরে যেতে নন বরং দৌড়াতে এসেছেন। তার গল্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তাকে ভালোবাসা ও শুভকামনায় ভরিয়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা।