Story

ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার পিছনে গান্ধীজীর নয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অবদান সবথেকে বেশি! উঠে এলো আরো এক অজানা তথ্য

ভারত বর্ষ স্বাধীন হয়েছে কেটে গিয়েছে দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময়। আজ ১৫ ই আগস্ট। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষপূর্তি। দীর্ঘ টানা ২০০ বছর নির্মম অত্যাচারের পর ব্রিটিশ ইন্ডিয়া থেকে মুক্তি পেয়ে ভারতবর্ষ স্বাধীন রাষ্ট্র রূপে গড়ে উঠেছিল। তবে ঠিক কি কারণে স্বাধীন হয়েছিল দেশ! এর পিছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি? নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু নাকি মহাত্মা গান্ধী? এ নিয়ে আজও রয়েছে মতবিরোধ। একদল ভারতবাসী মনে করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্যেই ভারত স্বাধীনতা লাভ করেছিল। অপর দল ভারতবাসী মনে করেন মহাত্মা গান্ধীর জন্য ভারতের স্বাধীনতা এসেছিল।

তখন ১৯৪৬, ভারতবর্ষের স্বাধীনতা লাভের ঠিক এক বছর আগের সময়কাল, ফেব্রুয়ারি মাস, সেই সময়ে ব্রিটিশ রাজত্বের প্রতি নেতাজির প্রতিকৃতি নিয়ে ভারতীয় রয়্যাল নৌবাহিনীর ২০,০০০ জন সেনা এক সময় বিদ্রোহ প্রকাশ করেছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্রোহের বীজ ধীরে ধীরে বপন করেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস। নেতাজির দেখানো পথেই জয় হিন্দ স্লোগান দিয়ে ভারতীয় নৌ-বাহিনী মুম্বাই এগিয়ে বিদ্রোহ প্রকাশ করেছিল। জাহাজ গুলো থেকে নামানো হয়েছিল যুক্তরাজ্যের পতাকা।

সামরিক ইতিহাসবিদ জেনারেল জিডি বক্সী, ‘বোস: এন ইন্ডিয়ান সামুরাই’ নামের বইটিতে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলির নেতাজি প্রসঙ্গে মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৫৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন গভর্নর পিবি চক্রবর্তীর সঙ্গে কথোপকথনের নানা বিষয় টেনে এনেছেন তিনি। তৎকালীন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর চক্রবর্তী ইতিহাসবিদ আরশি মজুমদারের বই ‘এ হিস্ট্রি অফ বেঙ্গল’ র প্রকাশক কে সমস্ত কিছু জানানো হয়েছিল এক চিঠির মাধ্যমে।

কংগ্রেস ও তার পরবর্তী সরকার গুলি সেই বিষয়ে বহু তথ্য ধামাচাপা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক গোপন নথির হাত ধরে ইঙ্গিত মিলেছে গান্ধীজীর অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীন ভারতের জন্ম হয়নি। ভারতের জন্ম একমাত্র হয়েছে নেতাজি ও তার আজাদ হিন্দ ফৌজ এর জন্যেই। তৎকালীন নেতাজির বিভিন্ন কর্মকান্ড ব্রিটিশদের মাথা ব্যথার মূল কারণ হয়েছিল। সেই সময় ব্রিটিশ সরকার এতটাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল যে ভারতবর্ষকে স্বাধীন রাষ্ট্র রূপে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিল।

জানা গিয়েছে, সেইদিন পিবি চক্রবর্তীর গেস্ট হাউসে রাত কাটিয়েছিলেন’ ক্লিমেন্ট এটলি। পিবি চক্রবর্তী চিঠিতে লেখেন,‘আমি ক্লেমন্ট এটলিকে প্রশ্ন করেছিলাম, “আপনারা কী কারণে এত দ্রুত ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?’ তিনি আমাকে বলেন, ‘নেতাজির সামরিক কর্মকাণ্ডের কারণে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর মধ্যে ব্রিটিশ রাজের প্রতি বিদ্রোহ দানা বেঁধেছিল। তারা আর অনুগত থাকছে না।’আমি আরও জানতে চাইলাম, ভারত ছাড়ার পেছনে গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের ভূমিকা কতটুকু?”

Back to top button