বাবা নর্দমা থেকে আবর্জনা নোংরা পরিস্কার করে, ছেলে AIIMS এর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ডাক্তার হতে চলেছে

আমাদের দেশে আপনি দেখবেন অনেক লোক দারিদ্রতার সাথে লড়াই করছে। একজন দরিদ্র ব্যক্তি তার পরিবার ও তার জীবনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে তবে তার নিজেরও অনেক স্বপ্ন থাকে যা সে পূরণ করতে চায়। কিন্তু অর্থের অভাবে তাদের সে স্বপ্ন অনেক সময় পূরণ হয়না।

অন্যদিকে আপনি সমাজের কিছু লোককে দেখতে পাবেন যারা তাদের কঠোর পরিশ্রমের দাঁড়া তাদের পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে এবং দৃঢ় সংকল্পের দ্বারা তারা তাদের গন্তব্যে পৌঁছান। আজকের অনুপ্রেরণামূলক পোস্টে আমরা আপনাকে এমনই একজন ব্যক্তির কথা বলতে চলেছি। আমরা যার কথা বলছি তার নাম হল আশারাম চৌধুরী তার বাবা আবর্জনা পরিষ্কার করে সংসার চালাতেন।

এরকম পরিস্থিতিতে আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারিনা যে এত দরিদ্র পরিবারের একটি ছেলে একদিন ডাক্তার হবে। আশারাম চৌধুরী মধ্যপ্রদেশের জেলায় থাকেন এবং তার বাবা একাই আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজ করতেন। এতক্ষণে আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে তাদের আর্থিক অবস্থা কেমন ছিল। তার বাবার কাছে বিদ্যালয় পাঠানোর মত টাকা ছিলনা।

তার বাবা কখনো কারোর বাড়িতে দৈনিক মজুরের কাজ করতেন আবার কখনো তিনি পোর্টারের কাজ করতেন। মাঝে মাঝে আশারাম তার বাবার সাথে দেখা করতেন এবং তার কাজে তাকে সহায়তা করতেন। কেউ একদিন আশারামের বাবা কে বলেছিল যে সরকারি স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি খাবার দেওয়া হয়।

তখন তার বাবা ভেবেছিলেন যে বাচ্চারা খাবারও পাবে আবার পড়াশোনা ও শিখবে তাই আশারামকে ভর্তি করে দেন স্কুলে। আশারাম পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিল তিনি তার গ্রাম থেকে পঞ্চম স্তরের স্কুল পড়াশোনা শেষ করেছিলেন এবং পড়াশোনায় ভালো ছিল বলে তার স্কুলের এক শিক্ষক তাকে নবোদয় বিদ্যালয় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।

তারপর তিনি নিজেই নবোদয় বিদ্যালয়ে পরেছেন। এরইমধ্যে এক সময় হঠাৎ আশারামের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে এবং তার বাবা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়।চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক তার পিতার কাছ থেকে 50 টাকা নিয়েছিলেন এবং সেই সময় আশারাম অনুভব করেছিলেন যে এটি তার বাবার পুরোদিনের উপার্জন এবং এই ডাক্তার একমুহূর্তেই সেটি নিয়ে নিলেন।

তখনই তিনি ভেবেছিলেন যে তিনিও বড় হয়ে একজন ডাক্তার হবেন। এই সময় আশারামের পরিবারে বিপিএল কার্ড হয়ে গেছে এবং দরিদ্র পরিবারের বাচ্চাদের উচ্চ শিক্ষা সহায়তা করার জন্য ফাউন্ডেশনে নির্বাচিত করা হয়েছিল। 18 বছর বয়সে আশারাম তার কঠোর পরিশ্রমের সাথে অধ্যায়ন করেছিলেন।

যোধপুর থেকে তিনি এমবিবিএস পাশ করেন। তার সাফল্যের কথা প্রধানমন্ত্রী তার মন কি বাত প্রগ্রামে বলেছেন এবং তার প্রশংসাও করেছেন। তার মেডিকেল ফি নেওয়া হবে না এবং সরকার তার পরিবারের জন্য বাড়তি সুবিধা দেবে। আমরা সবাই এই ধরনের প্রতিশ্রুতি বদ্ধ শিক্ষার্থীদের জন্য গর্বিত।।