এক ছোট্ট দোকান থেকে কিভাবে আজকের সবচেয়ে জনপ্রিয় হলদিরাম! এই সফলতার গল্প আপনার মধ্যেও আত্মবিশ্বাস যোগাবে

হলদিরামের ভুজিয়া, মিষ্টি এমন কেউ নেই যে কোনোদিন খায়নি। এই ব্র্যান্ডটি ৭৯ বছর আগে শুরু হয়েছিল একটি ছোট খাবারের দোকান দিয়ে। এখন সেটি এক বিশাল বড় ব্রান্ডে পরিণত হয়েছে। সেই ছোট্ট দোকানটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গঙ্গা ভীশেন আগারওয়াল।

কিছুদিনের মধ্যেই দোকানটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তিনি বিকানের ভুজিয়াওয়ালা নামে খ্যাতি লাভ করেন। তারপরই তিনি দোকানটির নাম হলদিরাম রাখেন। হলদিরাম নামটি যদিও ওনার নিজেরই ওপর একটি নাম ছিল।

ঘরে ঘরে তার দোকানের কথা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি এই দোকানটির নাম হলদিরাম রেখেছিলেন। এই হলদিরাম পুরো বিকান জুড়ে আলুর ভুজিয়া সহ অন্যান্য ধরনের স্ন্যাকসের ব্যবসা শুরু করে ও ধীরে ধীরে ব্যাবসা বাড়তে থাকে।

এরপরেই তার ব্র্যান্ডটি সারাদেশে আলোচিত হতে শুরু করে। হলদিরাম একটি বিখ্যাত দোকান এবং ব্র্যান্ড হিসেবে বিখ্যাত হয়েছিল।

এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসার প্রসারের জন্য হলদিরাম দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আউটলেটগুলিতে ভিত্তি স্থাপন করে। এভাবেই হলদিরাম বিকানের থেকে দিল্লিতে গিয়েছিল, যা কয়েক বছর পরে আমেরিকাতেও পৌঁছে যায়।

হলদিরাম পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় প্রথম নিজেদের ব্যাবসা শুরু করে। এখন হলদিরামের দোকান সারা ভারতে রয়েছে। দিল্লি, জয়পুর, কলকাতা সহ আরো ৮০টিরও বেশি দেশে নিজেদের খাওয়ায় রপ্তানি করেছে।

এমনকি দেশের বাইরে আমেরিকাতেও তার খাওয়ারের গুণগান ছড়িয়ে পড়েছে। তাই জন্য এখন ভারতে শুধু নামই অর্জন করেনি বরং প্রচুর ভালোবাসাও অর্জন করেছে।

বর্তমানে হলদিরামে ১০০ টিরও বেশি বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন করা হয়। ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে উত্তর ভারতে হলদিরামের মোট উপার্জন ছিল ২১০০ কোটি টাকা।

হলদিরাম তার পণ্য তৈরীর জন্য বছরে ৩.৮ বিলিয়ন লিটার দুধ, ৮০ বিলিয়ন কেজি মাখন, ৬২ মিলিয়ন কেজি আলু, ৬০ মিলিয়ন কেজি দেশি ঘি কিনতেন।

হলদিরাম গ্রাহকদেরকে খুব কম দামে ভালো মানের খাবার সরবরাহ করতেন। এই জন্যই তো আজ হলদিরাম ভারতের একটি অন্যতম বিখ্যাত ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে। এখন ঘরে ঘরে হলদিরামএর আলুর ভুজিয়া বা মিষ্টির স্বাদ পৌঁছে গেছে খুব সহজেই।