গোটা বিশ্বের দশ সুন্দরীর এক সুন্দরী হলেন ভারতের এক রাজকন্যা! তার রূপে মুগ্ধ নেটিজেনরা

বিশ্বের মঞ্চে সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতায় অন্যান্য দেশকে টেক্কা দিয়ে ভারতের নাম যারা উজ্জ্বল করেছেন তাদের কথা বললেই উঠে আসে সুস্মিতা সেন থেকে ঐশ্বর্য রাইয়ের নাম। তবে এদেরও আগে যিনি বিশ্বের দরবারে ভারতীয় সৌন্দর্যকে তুলে ধরেছিলেন তিনি কোন মডেল বা অভিনেত্রী নন বরং তিনি হলেন কোচবিহারের রাজকন্যা গায়ত্রী দেবী।

জন্মসূত্রে ভারতীয় হলেও তিনি জন্মেছিলেন লন্ডনে ১৯১৯ সালে। তারপরে পড়াশুনার কারনে এসেছিলেন শান্তিনিকেতনে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর সান্নিধ্যও লাভ করেছিলেন রাজকন্যা।

তারপর পরবর্তী পড়াশোনার জন্য তিনি চলে যান সুইজারল্যান্ডে। উনিশ শতকের মহিলা মহলের থেকে গায়ত্রী দেবী অনেকটাই আলাদা ছিলেন।

পর্দা প্রথা নয় বরং খেলাধুলা থেকে শুরু করে শিকার করা সমস্ততেই পারদর্শী ছিলেন তিনি। শোনা যায় মাত্র ১২ বছর বয়সেই একটি চিতা বাঘ শিকার করে তার শিকার দক্ষতার মাধ্যমে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

মাত্র ২১ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়েছিল জয়পুরে রাজা দ্বিতীয় সাওয়াই মানসিং বাহাদুরের সঙ্গে। বিয়ের পরেও তিনি মানেননি পর্দাপ্রথা। বরং সিল্ক এর ড্রেস পড়ে নিয়মিত পোলো খেলতে যেতে দেখা যেত তাকে।

১৯৬০ সালে ব্রিটেনের জনপ্রিয় ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভগ’ বিশ্বের 10 সুন্দরী মহিলার তালিকায় স্থান দেয় মহারানী গায়ত্রী দেবীকে।
প্রসঙ্গত তাকে উনিশ শতকের উত্তর ভারতের ফ্যাশন আইকন বলেও মনে করা হয়।

কারণ তিনিই প্রথম উত্তর ভারতের ট্রেডিশনাল ভারি শাড়ি ও অলংকার এর বিরুদ্ধে গিয়ে সিম্পল শাড়ি এবং হালকা গয়নায় নিজেকে সাজাতে পছন্দ করতেন।

অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে শাহরুখ খান সকলেই মুগ্ধ ছিলেন তার সৌন্দর্য্যে। ২০০৯ সালে মৃত্যু হয় এই ভারতীয় সুন্দরী রাজমাতার।