ঝাড়খণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পড়াশোনা করে আজ ডিএসপি

Kishore Kumar Razak
Kishore Kumar Razak

কথায় বলে,”জন্ম হোক যেথায়—সেথায় কর্ম যেন ভালো হয়”৷ এই প্রবাদবাক্যের বাস্তব ছবি দেখা গেল ঝাড়খণ্ডের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে৷ এমন একটি গ্রাম ,যে গ্রামে প্রায় ৭০বছর ধরে পৌঁছায়নি বিদ্যুৎ৷ শিক্ষা আর শহুরে সভ্যতার থেকে কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত গ্রামটি৷ ঝাড়খণ্ডের এই গ্রামেরই ছেলে কিশোর কুমার রাজাক আজ সরকারি চাকরী পেয়ে নিজেকে করেছে প্রতিষ্ঠিত৷ ২০১১সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন প্রথমবারের চেষ্টাতেই এবং সহকারী কমান্ড্যাট পদে নির্বাচিত হন৷ এরপরই কিশোর ডিএসপি পদে নির্বাচিত হন৷

শহুরে সভ্যতার থেকে দূরে থেকে,পড়াশোনার সুযোগটুকুও না পেয়ে রাজাকের এই সাফল্য আজকের প্রজন্মের কাছে আর পাশাপাশি তার গ্রামের মানুষদের কাছেও এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত৷ কিশোরের বাবা কাজ করতেন কয়লাখনিতে৷ ফলে সংসারে ছিল প্রভূত আর্থিক অনটন৷ পয়সার অভাবে কখনও স্কুলের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পায়নি ছেলেটি৷ ঝাড়খণ্ডের বোকারোর বাসিন্দা কিশোর সমস্ত প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে আজ ডিএসপি৷

অত্যন্ত দরিদ্র দলিত পরিবারের ছেলে সে৷ আর পাঁচটি গ্রামের শিশুর মতোই ছিল তার ছেলেবেলা৷ বিদ্যুৎ পরিষেবা না পৌঁছনো গ্রামটিতে এর আগে কেউ কোনোদিন সরকারী পদে চাকরী করেনি৷ রাজাক গোটা গ্রামের কাছে সত্যই এক অনুপ্রেরণা৷

রাজাকের গোটা শৈশবকাল কেটেছে লড়াই করে৷ প্রতিনিয়ত লড়তে হয়েছে দারিদ্রের সাথে,পেটে খিদের জ্বালা নিয়ে রাতের পর রাত কাটাতে হয়েছে৷ ধানবাদের কয়লাখনিতে কাজ করে তার বাবার সামর্থ্য ছিল না ছেলেকে পড়াশোনা করানোর৷ কিন্তু কিশোর পড়াশোনার জন্য এবং পরবর্তীকালে চাকরীর জন্যও উৎসাহ ,সমর্থন পেয়েছিল৷ গ্রামের একটি সরকারী স্কুলে সে কোনোরকমে পড়াশোনা করতে পেরেছিল৷ তবে এতটাও সহজ ছিল না তার পথ৷

রোজ কিশোরকে করতে হত চাষবাসের কাজ৷ সন্ধ্যে হলেই গরু,ছাগল চড়াতে যেত সে৷ গ্রামের বাকি ছেলেদের সাথে খেলাধূলা করতেও ভালোবাসতো সে৷ দশম—দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করে ইতিহাসে স্নাতক নিয়ে কলেজে ভর্তি হন ৷ তৃতীয় বর্ষে ফেল করলেও হাল ছাড়েননি যুবক৷ আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা ধার করে দিল্লিতে আসেন৷ ইউএসপির জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন ভাবী ডিএসপি৷ দিল্লিতে যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন সেই বাড়ির ছেলেমেয়েদের পড়াতে শুরু করেন এবং তারপরই আরও অনেকেই একে একে পড়তে আসে তার কাছে৷ এভাবেই অর্থ উপার্জন করেন এবং ইউপিএসসির জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন৷

এরপর ২০১১তে ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন ৷ প্রথমে সহকারী কমান্ড্যাট এবং পরে ডিএসপি পদে নির্বাচিত হন৷
কিশোর কুমার রাজাকের গল্প আসলে এটাই প্রমাণ করে যে ইচ্ছে থাকলে কোনোকিছুই বাধা হতে পারে না৷ প্রবল দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে শেষমেষ সরকারী পদে আসীন হওয়া কিশোর সত্যই এক অনুপ্রেরণা আর উদাহরণ বলা যায়৷