১৬ সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার জয় সন্তোষী ব্রত পালনেই হয়ে যাবে মুশকিল আসান

ভক্তের মনোকামনা পূর্ণ করে সন্তুষ্টি দেন। তাই তিনি সন্তোষী (Santoshi Maa) । দেবীর হাতে তরবারি, চালের সোনালী পাত্র, ত্রিশূল। পৌরাণিক মতে তিনি গণেশের কন্যা। উত্তর ভারত, নেপালের মহিলারা সন্তোষী দেবীর পুজো করে থাকেন। তবে এই ব্রত এখন অনেকেই পালন করেন। বাঙালি ঘরে ঘরেও পূজিতা হন এই দেবী। মায়ের এক হাতে তরবারি, এক হাতে চালের পাত্র ও অন্য হাতে ত্রিশূল ৷ ১৬ শুক্রবার ধরে টানা পুজো অর্চনা করলেই মা নিজের কৃপা বর্ষণ করেন ৷

পুরাণ মতে মা সন্তোষীকে সন্তুষ্ট করলে জীবনের সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে যাবে জীবন কারণ সন্তোষী মা স্বয়ং সিদ্ধিদাতা গণেশের মেয়ে তাই৷ গণেশের দুই ছেলে শুভ ও লাভের ভগনীর ইচ্ছাপূরণের জন্যেই মা সন্তোষীর আবির্ভাব৷ শুক্রবার মায়ের নাম জপ করেন ভক্তেরা তবে মা সন্তোষী বিশেষ ভাবে খুশি হয়ে থাকেন৷

পৌরাণিক মতে তিনি গণেশের কন্যা। গণেশের দুই ছেলে শুভ আর লাভের ইচ্ছে হল বোনের হাতে রাখী পরবেন। কিন্তু গণেশের কোনও কন্যা ছিল না। পুত্রদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে এক কন্যার সৃষ্টি করলেন গণেশ। তাঁর হাতে রাখী পরলেন শুভ আর লাভ। দাদাদের মনের ইচ্ছে পূর্ণ করলেন বলে তাঁর নাম হল সন্তোষী। এই দেবী পূজিতা হন দুর্গার অবতার রূপেও । ভক্তের মনোকামনা পূর্ণ করে সন্তুষ্টি দেন। তাই তিনি সন্তোষী (Santoshi Maa) । দেবীর হাতে তরবারি, চালের সোনালী পাত্র, ত্রিশূল। দেবীর জন্ম হয়েছিল শুক্রবারের পূর্ণিমা তিথিতে। তাই সন্তোষী মায়ের পুজোর জন্য শুক্রবার দিনটি শ্রেষ্ঠ। ইনি চতুর্ভুজা ও রক্তবস্ত্র পরিহিতা। নিজের চারটি হাতের দুটিতে ত্রিশূল, ও তলোয়ার ধারণ করেন। বাকি দুটি হাতে বরাভয় ও সংহার মুদ্রা ধারণ করেন। এই দেবীর ত্রিশূল পাত, তিনটি গুণ যথা- সত্ত্ব, রজঃ, তম এর প্রতীক, আর তলোয়ারটি জ্ঞানের প্রতীক।

সংঘবদ্ধ হয়ে চলতে হয় সংসারে বসবাস করতে গেলে৷ জীবন সবাইকে নিয়ে চলাই কাঙ্খিত, পরিবার পরিজনের মঙ্গল ও সন্তানদের সমৃদ্ধি সবই সম্পন্ন হয় মা সন্তোষীর ব্রততে এমনটাই বিশ্বাস৷ নেপাল ও উত্তরভারতে দীর্ঘদিন ধরেই মা সন্তোষীর আরাধনা করা হয়৷ তবে এখন বহু বাঙালি ঘরের মহিলারাও এই ব্রত রাখেন৷

১৬ শুক্রবার ব্রত উদযাপন করতে হয়। উদযাপনের দিন ৭ জন বালক কে ভোজন করাতে হয়। ছানা থেকে তৈরি কোনো মিষ্টি মাকে দেওয়া যায়না। উদযাপনের দিন মায়ের কাছে একটি নারকেল ফাটিয়ে নারকেলের জল মায়ের চরণে দিতে হয়। নারকেল মায়ের সামনে ফাটাবেন, এক আঘাতে। এইভাবে সন্তোষী মায়ের ব্রত পালন করলে তাঁর কৃপায় আপনার জীবনে সুখ শান্তি ফিরে আসবে।