বাংলার মহিলারাই তাড়াবেন মমতাকে? দাবী লকেটের, একহাত নিলেন কল্যাণ

Locket Chatterjee and Kalyan Banerjee
Locket Chatterjee and Kalyan Banerjee

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে খেয়ালে রেখে একেবারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তৃণমূল—বিজেপি৷ তৃণমূল নিজের জায়গাকে আরও শক্ত করতে পৌঁছতে চাইছে “দুয়ারে দুয়ারে”৷ অন্যদিকে বঙ্গভূমির রাজত্ব পেতে জনসংযোগ আরও দৃঢ় করছে বিজেপি৷ ভারতীয় জনতা পার্টির একেরপর এক হেভিওয়েট নেতারা আসছেন বঙ্গসফরে৷ উৎসবের মরশুমে অমিত শা এসেছিলেন , ডিসেম্বরের শুরুতে জেপি নাড্ডার বাংলায় আসার কথা৷ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জায়গা শক্ত করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে লকেট চট্টোপাধ্যায় সহ আরও নেতৃত্বরা৷

নভেম্বরের শেষদিনে হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যায় নানান ভূমিকায়৷ বাংলার মানুষের সাথে সংযোগ আরও বাড়াতে এদিন সাংসদ প্রথমে মগরায় স্থানীয় নেতাদের সাথে করেন বৈঠক৷ বৈঠকের ঠিক পরেই সোজা চলে যান এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে,সেখানেই সারেন দুপুরের খাওয়া—দাওয়া৷  শুধু এখানেই শেষ নয়,আদিবাসীদের সাথে নাচের তালে মেতে ওঠেন লকেট৷

তবে এই সবকিছুর পাশাপাশি তৃণমূলকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি৷ চুঁচুড়ার বিজেপির জেলা অফিসে বসেই বাংলার বুকে নারী নির্যাতন বৃদ্ধি নিয়ে দোষারোপ করেন শাসকপক্ষকে৷ তার মতে,বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিজে একজন মহিলা হওয়া সত্ত্বেও এখানে মেয়েরা নিরাপদ নয় এবং নারী নির্যাতনে বাংলার স্থান প্রথম বলেও দাবী করেন লকেট৷

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে নাকি তাড়াবেন এখানের মহিলারাই এবং এভাবেই তারা আগলাবে ২০২১—এর বুথ৷ সোমবার এমনটাই দাবী করেন হুগলির সাংসদ৷ ঘটনাচক্রে আবার আজ “উঠেছে আওয়াজ বঙ্গে,মহিলারা দিদির সঙ্গে” কর্মসূচী গৃহীত হয়েছে তৃণমূলের তরফে৷ ফলে তৃণমূলের এই শ্লোগানকেও বিদ্রুপ করে লকেট বলেন “বঙ্গে চাল চোর তৃণমূল দিদির সঙ্গে”৷

অন্যদিকে, শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ বিজেপি সাংসদের দিকেই কটাক্ষের আঙুল তোলেন৷ তার মতে,লকেট চট্টোপাধ্যায় একসময়ে ছিলেন অত্যন্ত ভালো অভিনেত্রী৷ আদিবাসীদের সাথে নাচ করা বা তাদের বাড়ি ভোজন এসবই আসলে তার অভিনয়ের অঙ্গ মাত্র৷ পাশাপাশি তিনি এও বলেন যে , “আমি শুনেছি,উনি নাকি বলেছেন ২০২১—এ মমতা ব্যানার্জীই আবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন” ৷ তাই ২০২৪ অবধি তাকে অপেক্ষা করে তৃণমূলেই ফিরতে হবে বলেও দাবী করেন কল্যাণ৷

তবে বলাই বাহুল্য যে ২০১৯—এর লোকসভা নির্বাচনে হুগলির কেন্দ্রটির দখল নিয়ে নেয় বিজেপি৷ ৭টি আসনের মধ্যে মাত্র দুটিতে এগিয়ে ছিল ২টি আসনে আর বিজেপি ৫টি আসনে৷ সুতরাং,২০২১—এর নির্বাচন দু—পক্ষের কাছেই হয়ে দাঁড়িয়েছে হাতিয়ার৷