নন্দীগ্রামে মৃতদের পরিবারের কাছে এখনও “নয়নের মণি” শুভেন্দু

শুভেন্দু অধিকারী—বিগত দীর্ঘদিন ধরে তিনি খবরের শিরোনামে৷ তার রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে চাপানউতোরের অবসান ঘটালেন তিনি নিজেই৷ দুদিন আগেই মেদিনীপুরের সভায় অমিত শাহের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে৷ তবে এই কি সেই শুভেন্দু অধিকারী যিনি একসময় ছিলেন তৃণমূলের কাণ্ডারী! রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলে যিনি ছিলেন অন্যতম মুখ,সেই শুভেন্দু অধিকারী আজ ইস্তফাপত্র পৌঁছে দিলেন দলে৷

২০০৭সাল থেকে শুরু হয় নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলোন৷ সেই আন্দোলোনের সামনের সারিতে একটাই নাম জেনেছিল রাজ্যবাসী,তা হল শুভেন্দু অধিকারী৷তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার আগে থেকে দলের সাথে ওতপ্রোতভাবেযুক্ত,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ্য সৈনিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন শুভেন্দু৷ এমনকি দলের যুবদের সাথে তার সংযোগ ছিল অন্যমাত্রার৷

২০০৯সালের লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্র থেকে সিপিএমের লক্ষ্মণ শেঠকে হারিয়ে বিধানসভা থেকে সংসদে পা রাখেন তিনি৷ এরপর ২০১৬সালে জয়ী হন নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রীসভায় পান পরিবহণমন্ত্রীত্বের পদ৷ তিনিই এখন “প্রাক্তন” মন্ত্রী৷ পাঁচ বছরের ষধ্যে করলেন দলবদল৷ গতবছর লোকসভা নির্বাচনের আগে শ্লোগান দিয়েছিলেন,”বিজেপি হঠাও”৷ ২০২০ তে দলবদলের দিনে হুঙ্কার দিলেন,”তোলাবাজ ভাইপো হঠাও৷”

নন্দীগ্রাম আন্দোলোনের মুখ শুভেন্দু অধিকারীকে যেদিন মমতা ব্যানার্জী বিধানসভা ভোটের প্রার্থী ঘোষণা করেছিলেন,ঠিক পাঁচ বছর পর সেদিনই তিনি দিলেন ইস্তফাপত্র৷ ২০১৫সালের ২১শে ডিসেম্বর নন্দীগ্রামের তেখালিতে দাঁড়িয়ে জোর গলায় বলেছিলেন যে তৃণমূল পুনরায় ক্ষমতায় এলে শুভেন্দু থাকবেন মন্ত্রীসভায়৷ এই বছরও ওই একইদিনে তৃণমূল থেকে পদত্যাগের পত্র পৌঁছায় বিধানসভায়,গ্রহণ করেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়াশিবিরে যোগদান করলেও অব্যাহত তাকে নিয়ে তরজা৷

তৃণমূলের তরফেও আসছে অভিযোগ৷ শুভেন্দুর বিরুদ্ধে শোনা যাচ্ছে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ৷ নন্দীগ্রাম ১নং ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি স্বদেশ দাস শুভেন্দু অধিকারীকে করেছেন সরাসরি নিশানা৷ তার কথায়,”উনি দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন,শহিদ পরিবারের সাথেও বেইমানি করেছেন৷তবে শুভেন্দুর পদত্যাগকে দলের “ভালো” হিসেবে দেখছেন স্বদেশবাবু৷ তার মতে,”জঞ্জাল সাফ হয়েছে”৷

অন্যদিকে বিডেপির তমলুক শাখার সহ সভাপতি প্রলয় পাল আক্রমণ করেনে তৃনমূলকে৷ তার দাবী শুভেন্দু আসায় বিজেপির ঘাঁটি আরও শক্ত হবে এবং দলের ভালো হবে৷ এমনকি এও বলেন, নন্দীগ্রাম আন্দোলোনের কাণ্ডারী শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় আসল ক্ষতি তৃণমূলের,দলটি ভেঙে পড়বে বলেও বিশ্বাস তার৷

প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রামে মৃতদের পরিবার শুভেন্দুর বিপক্ষে যেতে পারেনি৷ তাদের কাছে শুভেন্দু অধিকারী “নয়নের মণি”৷ মৃত পুষ্পেন্দু মণ্ডলের দাদা কৃষেন্দু মণ্ডলের মতে “উনি পাশে ছিলেন,এখনও আছেন৷” এমনকি মৃত ইমাদুলের বাবা আবদুল দাইহান খানের সোজা কথা,”তাকে বিশ্বাসঘাতক বলতে পারবো না৷”