দলের ব্যানারেই কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে,ডাক নেই দিদির সভাতেও,দল নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তৃণমূল নেতা

ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই জল্পনা বাড়ছে শাসকদলের অভ্যন্তরে৷ শুভেন্দু অধিকারীকে দিয়ে শুরু,তারপর থেকেই একের পর এক তৃণমূল নেতা সহ বিধায়কদের গলায় শোনা যাচ্ছে দলবিরোধী নানান মন্তব্য৷ পিকের টিমকে দল পরিচালনার ভার দিয়ে দেওয়াতে অসন্তুষ্ট অনেকেই৷ দিন কয়েক আগেও মদন মিত্র টিম পিকের বিরুদ্ধে উগড়ে দিয়েছিলেন ক্ষোভ৷ শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের পর থেকে অনেক সামনের সারির তৃণমূল নেতাদের মুখে শোনা যাচ্ছে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভের তালিকা৷ দু একদিন আগে বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায় একটি সভাতে গিয়ে দলবিরোধী নানান মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে যারা আসলে মানুষের জন্য কাজ করতে চায় তাদেরকে পিছনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে৷

এবার এ বিষয়ে মুখ খুললেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সামনের সারির তৃণমূল নেতা অমূল্য মাইতি৷ তার মুখেও শোনা গেল দলের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ৷ তার অভিযোগ,করোনা আবহে তার নিজের এলাকা সবংয়ের বলপাইতে মাস্ক,স্যানিটাইজার বিলির অনুষ্ঠান করতে গেলে পুলিশের তরফে বাধা আসে৷ এমনকি তিনি এও বলেন ,”দল করতে চাইলেও করতে দিচ্ছে না দলেরই একাংশ”৷পাশাপাশি তার আরও অভিযোগ যে দলের ব্যানারে অনুষ্ঠান করতে গেলেও বাধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে৷ জেলা পুলিশ এসে বাধা দিচ্ছে৷ তবে তৃণমূলের ব্যানারে অনুষ্ঠান করলেও কেন বাধা পুলিশের তরফে? এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা অমূল্য মাইতি সরাসরি জেলা নেতাদের দিকে আঙুল তোলেন৷ তার বক্তব্য তাকে দলের কাজ করতে কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে তার উত্তর দিতে পারবেন একমাত্র জেলা নেতারা৷

তবে শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের পর থেকেই শুভেন্দু অনুগামী হিসেবে পরিচিত অমূল্য মাইতি৷ শুভেন্দুর সমর্থনে পোস্টারিং যে “দাদার অনুগামী”—রা করেছিল সেই দলে ছিলেন তিনি৷ এমনিতেও রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি বরাবরই মানস ভুঁইয়া বিরোধী৷ শুভেন্দু অনুগামী অমূল্যবাবুকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছে জেলার রাজনৈতিক মহলে৷

দিন কয়েক আগে অমূল্য মাইতির নিরাপত্তারক্ষীদেরও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়৷ সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর সভাতেও আমন্ত্রণ পাননি অমূল্য মাইতি৷ সভাতে যোগ দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় বাড়িতে বসেই দিদির সভা দেখেন টিভিতে এবং সেই ছবিও পোস্ট করেছেন ফেসবুকে৷ তৃণমূলের একজন সামনের সারির নেতা হয়েও কেন ডাক পেলেন না দিদির সভায়? শুধুমাত্র শুভেন্দু অনুগামী হওয়াই কি একমাত্র অপরাধ? প্রশ্ন উঠছে দলের বিরুদ্ধে৷

মমতা বন্দোপাধ্যায়কে যে তিনি এখনও শ্রদ্ধা করেন তা তিনি নিজেই জানিয়েছেন,কিন্তু সভাতে ডাক না পাওয়ায় মনে কষ্ট পেয়েছেন৷ মেদিনীপুরে সভা হল,তবুও অমূল্য মাইতির ডাক পড়ল না৷ দলের ব্যানারে কাজ করতেও বাধা পাচ্ছেন৷ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে ৯৮সাল থেকে কাজ করছেন এ দলে৷ তবুও সরিয়ে রাখা হচ্ছে তাকে৷ এর পাশাপাশি অমূল্যবাবু জানান যে দলনেত্রীকে যেমন তিনি গুরুত্ব দেন,ঠিক তেমনই গুরুত্বপূর্ণতার চোখে দেখেন শুভেন্দুকেও৷ তার স্পষ্ট কথা কর্মাধ্যক্ষ না হয়ে কেউ মঞ্চে বসবে আর তিনি বসবেন দর্শক আসনে এতে আত্মসম্মান ক্ষুণ্ণ হবে তার৷
মেদিনীপুরের বুকে দিদির সভাতে বক্তব্য সামনে থেকে শোনার ইচ্ছে ছিল তার,কিন্তু তার মনের আশা পূর্ণ হল না৷
তবে কি তার সাথে দূরত্ব বাড়ছে দলের?

শুভেন্দু,রাজীব,শীলভদ্রের পর এবার কি অমূল্য মাইতি? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে৷ দলের পুরোনো নেতাদের গূরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না তৃণমূরের তরফে? এর উত্তরে অমূল্যবাবুর বক্তব্য , এর মূল্যায়ন দলই করবে৷ নির্বাচনের প্রাক্কালে দলের বিশ্বাসযোগ্য,পুরোনো ,দাপুটে নেতাদের থেকে তৃণমূল দূরত্ব বাড়াবে কিনা তা শুধু এখন দেখার অপেক্ষা৷