“তোলাবাজ ভাইপো হঠাও”, মেদিনীপুরের সভা থেকে সোচ্চারে শুভেন্দু

এতদিন ধরে যে জল্পনায় আবৃত ছিল বাংলার রাজনৈতিক মহল,আজ তার অবসান হল! অবশেষে উপস্থিত হল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ৷ শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে৷ সাথে আরও ৯জন তৃণমূল বিধায়ক যোগ দেবেন বিজেপিতে৷

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার পরেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বঙ্গসফরে আসার সূচী ঠিক হয়৷ কথামতো আজ অমিত শাহ পা দিলেন বাংলার মাটিতে৷ মেদিনীপুর কলেজ মাঠে জনসভায় হাজির হলেন৷ পাশাপাশি উপস্থিত শুভেন্দু অধিকারী সহ আরও অনেক সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক৷ শুভেন্দুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এতদিন সঠিক কোনোকিছু জানা যাচ্ছিল না,তিনিও মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন৷ এরপর দিল্লি যান এবং তারপরেই শোনা যায় যে আজ,শনিবার তিনি অমিত শাহের সভাতেই যোগ দেবেন পদ্মশিবিরে৷ দিলীপ ঘোষের হাত ধরে মঞ্চে উঠলেন শুভেন্দু , হাত ধরলেন অমিত শাহের৷ নিজের বড়ো ভাই বলে সম্বোধন করলেন অমিত শাহকে৷ জোর গলায় বললেন,”ভারতমাতা কি জয়৷” তারপরেই পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম সারলেন৷ যোগ দিলেন বিজেপিতে৷ সদ্য ছেড়ে দলকে নিশানা করলেন সরাসরি৷ হুঙ্কার দিলেন,”তোলাবাজ ভাইপো হটাও৷” তিনি আজ আরও বলেন,”লোকসভা ভোটের আগে আমি বলেছিলাম বিজেপি হটাও,ভারত বাঁচাও৷ আমি যখন যা বিশ্বাস করি তাই করি৷ আমার জন্ম দিয়েছেন যিনি,তিনি আমার মা৷ আমার অপর মা ভারতমাতা৷ অন্য কাউকে মা বলতে পারবো না৷” প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ দাগলেন শুভেন্দু,”এখানে অমিত শাহ ,কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে বহিরাগত বলছে৷ আমরা আগে ভারতীয় তারপর বাঙালি৷”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিজের বড়ো ভাই বলে সম্বোধন করে বললেন,”নেতাগিরি করবো না,বিজেপি পতাকা লাগাতে বললে লাগাব,দেওয়াল লিখতে বললে লিখবো,ছাত্র রাজনীতি করে উঠে এসেছি৷” তৃণমূলের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন কোভিড আক্রান্ত যখন হয়েছিলেন তখন দলের কেউ খোঁজ নেয়নি,একমাত্র খোঁজ নিয়েছিল অমিত শাহ৷” এমনকি এও বলেন যে মুকুল রায় তাকে অনেকদিন আগে থেকেই বলছিলেন যে আত্মসম্মান থাকলে তৃণমূলে থাকিস না৷

শুভেন্দু আজ মেদিনীপুরের সভাতে দাঁড়িয়ে বলেন,”আমাকে অনেকে বিশ্বাসঘাতক বলছে৷প্রতিষ্ঠার পরও তৃণমূল এনডিএর শরিক ছিল৷ এবারও দ্বিতীয় হবেন মমতা৷ এবার বাংলায় বিজেপিরই সরকার হবে৷ যেখানে বিশ্বাস নেই,সম্মান নেই,সেখানে থাকবো না৷”

পাশাপাশি তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্যেও খোলা চিঠি দিলেন শুভেন্দু—”গত দশ বছরে কোনো পরিবর্তন হয়নি৷যারা পার্টি তৈরী করেছেন তারা গুরুত্ব যাননি,ব্যক্তিগত স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছে৷ আজ আমাদের রাজ্যের উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে,তাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷” সাফ জানালেন প্রাক্তন মন্ত্রী৷ আরও বলেন,”দশ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও দুয়ারে সরকার প্রকল্প নিতে হচ্ছে৷ তিন দশক আগে যে লড়াই শুরু করেছিলাম,তা চালিয়ে যাব৷” আজ মেদিনীপুরের সভায় উপস্থিত আরও অনেক তৃণমূলের নেতা নেত্রীরাও৷

এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও আক্রমণ হানেন তৃণমূলকে৷ দুপুরে বালিজুড়ির এক কৃষক পরিবারে মধ্যাহ্নভোজন সেরে মেদিনীপুরের সভায় হাজির হন তিনি৷ সভা থেকে জোর গলায় মমতার উদ্দেশ্যে বলেন,”নাড্ডার কনভয়ে হামলা হয়েছে,দিদি ভেবেছেন আমরা ভয় পাব,যত হামলা হবে তত কঠোর মোকাবিলা হবে৷ লাখো মানুষের ভীড় দেখুন আজ,দিদির বিরুদ্ধে গোটা বাংলা৷ আপনি দুর্নীতিমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের পকেটে টাকা ভরেছেন৷ দিদি আপনার লজ্জা হওয়া উচিৎ৷”