মমতার ফোনেই মানভঞ্জন শুভেন্দুর? উপমন্ত্রীত্বই কি তবে একমাত্র শর্ত?

ঘরের ছেলে ফিরে গেল ঘরেই৷ এতদিনের চাপানউতোরের পর শেষমেষ শুভেন্দু অধিকারী থেকে গেলেন তৃণমূলেই৷ তার পদত্যাগকে ঘিরে এতদিন যাবৎ চলছিলো প্রচুর জল্পনা৷ বিজেপিতে তার যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিলো না৷ তবে, মঙ্গলবার সৌগত রায় ,অভিষেক বন্দোপাধ্যায় সহ পিকে টিমের এক বৈঠক হয় উত্তর কলকাতার এক জায়গায়৷ মিটিং শেষ করেই সৌগতবাবু জানিয়ে দেন যে শুভেন্দু দল ছাড়ছেন না৷ সমস্যা সব মিটে গেছে৷

সূত্র মারফত জানা গেছে যে এদিন দলীয় নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় স্বয়ং কথা বলেন শুভেন্দুর সাথে৷ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের সিন্ডিকেটকে মদত দেওয়ার ফলে ক্ষোভ তৈরী হয়েছিল শুভেন্দুর৷ কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরের বৈঠকের পরেই সমস্ত মান ভেঙে যায় প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রীর৷

তবে এখন প্রশ্ন উঠছে , হঠাৎ সংগঠিত এই বৈঠকের পরই শুভেন্দুর সব ক্ষোভ একনিমেষে মিটে গেল কীভাবে? এর আগেও তার কাঁথির বাড়িতে পিকের টিম কথা বলতে গেলে তিনি কথা বলেলনি৷ ফলাফল ছিল পদত্যাগ৷ তাহলে এদিনের বৈঠকে এমন কি প্রস্তাব ছিল ভোটকুশলী পিকের টিমের তরফে? এমনকি খবর অনুযায়ী ভাইপোর ফোনেই শুভেন্দুর সাথে কথোপকথন করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ শুভেন্দুর মনে থাকা অসন্তোষকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য কি তবে উপমন্ত্রীত্ব পদের দায়িত্ব প্রস্তাবিত হয়েছে? থেকে যাচ্ছে অনেক প্রশ্নই৷ শুভেন্দু এ ব্যাপারে এখনও মুখ খোলেননি৷

সূত্র মাধ্যম খবর যে শুভেন্দু যে পাঁচ জেলায় কাজ করতেন সেখানে কারও হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চান৷
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ,কোনোভাবেই দল তাকে ছাড়তে রাজি নয়৷ আর যেখানে ২১—এর নির্বাচন বাংলার জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যমূলক,তাই একথা জোর দিয়ে বলাই যায় যে একজন ভালো সংগঠককে পার্টি সহজে ছেড়ে দিতে চায় না৷ তার জনপ্রিয়তা পার্টির কাছে অজানা নয় আর তাই হয়তো বৈঠক এবং মানভঞ্জনের পালা চলল৷

উল্লেখ্য,শুভেন্দু অধিকারী নিজের অবস্থান নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট বার্তা দেননি৷ আজ হয়তো তিনি নিজেই সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে পারেন৷ সুতরাং তার রাজনৈতিক ভবিষ্যত ও পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা এখনও চলছে৷