“জনগণের লড়াইয়ে আছি”, কমফোর্ট জোনে রাজনীতি করেননা, সাফ জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু

মন্ত্রীত্বের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন অরাজনৈতিক সভার মঞ্চে৷ বারংবার বার্তা দিচ্ছেন মানুষের পাশে থাকার,মানুষের জন্য কাজ করার৷ বুধবারের সকালেও দক্ষিণ কলকাতার অনেকগুলি এলাকায় শুভেন্দুকে সমর্থন করে তার অনুগামীদের পোস্টার দেখেছিল মানুষ৷ বৃহস্পতিবার শহীদ বিপ্লরী ক্ষুদিরাম বসুর জন্মদিবসে পশ্চিম মেদিনীপুরে করেন সভা৷

পাশাপাশি গড়বেতায় শহীদ ক্ষুদিরাম স্মৃতি রক্ষা কমিটির আমন্ত্রণে এসে বিপ্লবী ক্ষুদিরামে পূর্ণাবয়ব মূর্তি উন্মোচন করেন এবং জানান বিনম্র শ্রদ্ধা৷ সেই মঞ্চে দাঁড়িয়েই বলেন,”আমি সামান্য জীব৷” এই মহতী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি সকলের কাছে কৃতার্থ বলেও জানান৷

সংবাদমাধ্যমকে নিশানা করে বলেন যে তিনি কমফোর্ট জোনে কখনই রাজনীতি করেননি আর করেনওনা৷ ২০১১সালের আগে থেকেই গড়বেতায় তার যাতায়াত এবং তিনি গ্রামের ছেলে হয়ে রাজনীতির ময়দানে নেমেছেন বলেই হয়তো অনেকের অসুবিধে হচ্ছে বলে দাবী প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রীর৷ বক্তব্য শেষ করার আগে শুভেন্দু শ্লোগান দেন “বন্দেমাতরম”৷ সাথে মাতৃ—শক্তি,যুবশক্তি,অগ্রজ—অনুজ ,আদিবাসী,কুড়মি ,মুসলিমদের নিয়ে একইসাথে পথ চলার আহ্বান জানান নন্দীগ্রামের বিধায়ক৷

এছাড়াও আগামী ৬ই ডিসেম্বর পালিত হবে কুড়মি সমন্বয় মঞ্চের আয়োজনে “দিয়া তো দিয়া,নাই দিয়া তো হুড়কা দিয়া”৷ সভা থেকেই শুভেন্দু দুবার জানান “জহার”৷ এদিনেই আবার তার সাংবাদিক বৈঠকও করার কথা , সেখানে তিনি তার রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে কথা বলবেন৷

বুধবারই সৌগত রায়কে হোয়াটসআপ বার্তার মাধ্যমে শুভেন্দু জানান যে তার পক্ষে একসাথে কাজ করা আর সম্ভব নয় ,সৌগতবাবুও পাল্টা বলেন যে তবে দলের বৈঠকে এসেছিলে কেন? এরই সাথে সৌগত রায় এও জানান যে শুভেন্দুর সাথে দলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না৷ কে গেল বা এল তা দেখার সময় পার্টির নেই৷ পার্টিকে বেঁধে রাখবেন মমতাই৷ অর্থাৎ শুভেন্দুকে বাদের তালিকায় রেখেই আসন্ন ভোটে গুটি সাজাচ্ছে তৃণমূল একথা স্পষ্ট৷

অন্যদিকে, গড়বেতার সভার আজে শুভেন্দু পূর্ব মেদিনীপুরে সভা ও পদযাত্রাও করেন ৷এও বলেন যে তিনি “বাংলার সন্তান,ভারতের সন্তান”৷ সিঙ্গুর—নন্দীগ্রামের জন্য লড়াই জারি থাকবে এবং জনগণের লড়াইয়ে তিনি সর্বদা থাকবেন পাশেই৷
ক্ষুদিরামের জন্মদিবসে শুভেন্দু তমলুকেও পদযাত্রা করেন এবং ক্ষুদিরামের শিক্ষাকেন্দ্র হ্যামিলটন স্কুলের একটি সভাতেও তাকে দেখা যায়৷

রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তা এড়িয়ে যান শুভেন্দু নিজেই৷ বলেন তিনি ভূমিপুত্র আর তাই তার লড়াই মানুষের স্বার্থে—”অফ দ্য পিপল—বাই দ্য পিপল—ফর দ্য পিপল৷” এদিন তার হাতে দেখা যায় জাতীয় পতাকা৷ তার উপস্থিতি ছিল দুটি সভাতে আর সেই দুটিই ছিল অরাজনৈতিক৷

এছাড়াও এই একই দিনে হলদিয়ার এক অরাজনৈতিক সভাতেই দেখা গেল তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ আর এককালে সিপিএমে থাকা লক্ষণ শেঠকে৷ তবে কি এবার জোড়াফুলেই আগমন লক্ষণের? জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে৷ শুভেন্দুর বদলে দলের অন্য মুখ কি তবে হতে চলেছে লক্ষণ শেঠ?