সুজাতা ঝগড়ুটে, হাইপারটেনশনে ভোগে, সন্দেহবাতিক; সৌমিত্র-র বিস্ফোরক ডিভোর্স নোটিশ

নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলা যেন হয়ে উঠেছে দলবদলের মঞ্চ৷ এ নিয়ে বেশ সরগরম রাজ্য—রাজ্যনীতি৷ শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দুদিনের মধ্যেই এবার সুর বদলে তৃণমূলে এলেন বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ—এর স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল খাঁ৷ এদিন তৃণমূল ভবনে সৌগত রায়ের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগদান করেন সুজাতা৷ গেরুয়াশিবিরের একজন অন্যতম সদস্যা আজ তৃণমূলে,অথচ যিনি একসময় দাবী করেছিলেন যে তার চাকরী কেড়ে নিয়ে তৃণমূল৷ আগে তার স্বামী সৌমিত্রবাবুও একজন কর্মী ছিলেন তৃণমূলে৷

প্রসঙ্গত,২০১৯সালে জানুয়ারি মাসে তিনি পদ্মপতাকা হাতে তুলে নেন এবং এখন বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি আর সাংসদ ৷ স্ত্রী সুজাতাও এতদিন ভারতীয় জনতা পার্টির হয়েই কাজ করেছেন৷ গতকাল সুজাতা তৃণমূলে যোগ দিলে আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননা বিঝেপী সাংসদ সৌমিত্র খাঁ৷ তিনি একটি প্রেস মিটে এদিন চোখের জল ফেলে বলেন,”তৃণমূল আমার ঘরের লক্ষ্মীকে চুরি করে নিয়ে গেল৷ পার্টির কাজ করতে করতে নিজের ঘরটাই দেখতে পারিনি৷” তিনি সরাসরি সুজাতাকে তার নামের শেষ থেকে “খাঁ” পদবী তুলে নিতে বলেন এবং তাকে ডিভোর্সের হুঁশিয়ারিও দেন৷ শুধু মুখেই নয়,করে দেখালেন কাজেও৷ বেলা বাড়তেই সুজাতার কাছে পৌঁছালো ডিভোর্সের নোটিশ৷ সেখানে স্ত্রীয়ের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন সৌমিত্রবাবু৷ সৌমিত্র আর সুজাতার সম্পর্ক প্রায় দশবছরের৷ তবে এবার তা ভাঙতে চলেছে পুরোপুরিভাবে৷ সুজাতা তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরে আবেগঘন হয়ে পড়তে দেখা যায় সৌমিত্র খাঁ—কে৷ অন্যদিকে সুজাতা মণ্ডল খাঁ—ও এদিন আবেগতাড়িত হয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে আজও তিনি সৌমিত্রকেই ভালোবাসেন,স্বামীর দেওয়া নোয়াই তিনি এখনও হাতে পড়ে আছেন৷ সুজাতা এও জানান যে বিজেপিতে থাকাকালীন প্রাপ্য সম্মান ,লড়াইয়ের মর্যাদা পাননি৷

শুধু সৌমিত্র খাঁ—ই নয়,ডিভোর্সের নোটিশ পাঠাতে পারেন সুজাতাও৷ সূত্রের খবর,সেখানে থাকবে স্বামী সৌমিত্রর সম্পর্কে আরও বিস্ফোরক অভিযোগসমূহ৷ সৌমিত্র খাঁ সোমবারই কথামতো ডিভোর্সের নোটিশ পাঠান সুজাতাকে৷ সেখানে সুজাতা সম্পর্কে রয়েছে কিছু গুরুতর অভিযোগ৷ সৌমিত্রর হয়ে এই নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সমীর কুমার ৷ ঘরের লড়াই এবার হতে চলেছে আইনের খাতায়৷

সুজাতার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার ভিত্তিতে আইনজীবী লিখেছেন—

* আপনি এবং আমার মক্বেল গত ছয়মাস ধরে আলাদা রয়েছেন৷ আপনাদের দু’জনের মধ্যে গত ছ’মাস ধরে আন্তরিক সম্পর্কও নেই৷

*আমার মক্বেল বুঝতে পেরেছেম যে আপনি হাইপারটেনশনে ভোগেন এবং ঝগড়ুটে৷

*বিয়ের পর থেকে আপনি আমার মক্কেলকে পরিবারের থেকে আলাদা থাকতে জোর করতেন৷ আপনি শুধু আমার মক্কেলই নয়,তার বাবা—মা আর আত্মীয়দের সাথে ঝগড়া করতেন ও গায়ে হাত দিতেন৷

*বিয়ের পর থেকেই আপনি আমার মক্কেলের চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করতেন এবং মারধোর করতেন৷

* আমার মক্কেল ২০১৯সালে লোকসভা নির্বাচনে জেতার পর থেকে বিজেপিতে উঁচু পদ পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার ওপর ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিলেন৷ কিন্তু বিজেপিতে স্বজনপোষণের কোনো জায়গা নেই!

* আপনি আমার মক্কেলকে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন৷কারণ,তৃণমূল আপনাকে পদের লোভ দেখিয়েছিল৷ কিন্তু যখন আমার মক্কেল তা মানতে অস্বীকার করেন,তখন তাকে গালিগালাজ,মারধোর করেন ও বাড়ি ছেড়ে চলে যান৷

*আমার মক্কেল বুঝতে পেরেছেন আপনি তার মানসিক অত্যাচারের কারণ হয়ে উঠতে পারেন৷তার সামাজিক জীবনে ক্ষতি করতে পারেন৷ আমার মক্কেল একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি,তার সামাজিক জীবনে কলঙ্ক নেই৷

এছাড়াও নোটিশে বলা হয়েছে যে সৌমিত্রবাবু পারস্পরিক সম্মত্তির ভিত্তিতে দ্রুত বিবাহবিচ্ছেদে আগহী৷ সৌমিত্র ভেবেছিলেন যে তার স্ত্রীয়ের ব্যবহারে পরিবর্তন আসবে,কিন্তু উল্টে তার এবং তার পরিবারের ওপর সুজাতার অত্যাচারের মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে গেছে৷ তবে হতে চলেছে সৌমিত্র —সুজাতার চিরস্থায়ী বিচ্ছেদ? এ নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি৷