রাতের অন্ধকারে অভিষেকের দিল্লির বাসভবনের দেওয়ালে কালি, অভিযোগের আঙুল বিজেপির দিকে

সম্প্রতি বঙ্গ সফরে এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা৷ এই সফরে তার রয়েছে নানান রাজনৈতিক কর্মসূচী৷ বৃহস্পতিবার ডায়মণ্ড হারবারে ছিল তার একটি সভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল৷ তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই শিরাকোল ,সরিষা সহ আরও বিভিন্ন জায়গায় আটকানো হয় তার কনভয়৷ এমনকি সংবাদমাধ্যমের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা ছাড়াও পর্যবেক্ষক বিজয়বর্গীয়ের গাড়ির কাচ ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে শাসকদলের বিরুদ্ধে৷ জেপি নাড্ডার গাড়ির কাচ বুলেট প্রুফ বলে ক্ষতি হয়নি৷ তবে বিজয়বর্গীয়ের চোট লাগে হাতে—পায়ে৷ হামলা শাসকদলের আশ্রিত গুণ্ডারা করেছিল বলে অভিযোগ বিজেপি নেতৃত্বের৷

এমনকি সেদিন ডায়মণ্ড হারবার যাওয়ার সময়ে নাড্ডার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয় বলে জানা যায়৷ আবার এদিনই রাতে দিল্লিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের দেওয়ালে কালি লাগিয়ে দেয় একদল যুবক৷ তৃণমূলের তরফে দাবী যে সেই যুবকরা বিজেপি দলের কর্মী৷রাতের অন্ধকারে বিজেপিই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ৷

তবে বিজেপি এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে৷ দলের মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য্য বলেন যে কে বা কারা করেছে তা তিনি জানেন না,দলের কোনো কর্মসূচী ছিল না এবং পাশাপাশি এও বলেন যে, এসব কালি লাগিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি বিজেপির নয়৷

১৮৩,সাউথ এভিনিউ,দিল্লি—এটাই অভিষেকের বাসভবনের ঠিকানা এখন৷ একটি ভিডিও শেয়ার হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়! সেখানে দেখা যাচ্ছে রাতের অন্ধকারে একদল যুবক অভিষেকের বাড়ির দেওয়ালে কালি লাগাচ্ছে৷ যদিও ভিডিওর সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি৷ সেই ভিডিওতে আরও দেখা যায় যে যুবকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিচ্ছে এবং এক যুবকের হাতে একটি পোস্টারও পরিলক্ষিত হয়,তাতে লেখা—” বিজেপির সর্বভারতীয় সহ—সভাপতি মুকুল রায়জির উপরে হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাই৷”

মুকুল রায় অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ৷ তার স্পষ্ট কথা,””আমি কোনো নির্দেশ দেইনি৷ ওই ভিডিও আমি দেখিনি৷” তবে তৃণমূলের তরফে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে এ বিষয়ে তারা আইনি পদক্ষেপও নেবেন৷ এ কথা জানিয়েছেন দলীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষ৷ বর্ষীয়ান নেতা সৌগত রায়ও এ বিষয়টির প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বলেছেন যে “এটা বিজেপিই করেছে৷ রাতের অন্ধকারে হামলা ওদের সংস্কৃতি,এসব করে তৃণমূলকে ভয় দেখানো যাবে না৷” বিজেপির দিকে ওঠা সমস্ত অভিযোগ তারা অস্বীকার করলেও তৃণমূল গুরুত্ব দিয়েই দেখছে বিষয়টি৷