“একজন শেয়ার ডাকলেই পাশ থেকে ডাকবে অন্য শেয়াল”, রাজীবের মন্তব্যে খোঁচা ফিরহাদের

একের পর এক সৈনিকের পিছু হটতে থাকা আসন্ন ভোটযুদ্ধের ময়দানে তৃণমূলের ঘাঁটি যে নড়িয়ে দিচ্ছে এ কথা খানিক স্পষ্ট৷ বহুদিন ধরেই শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে দলের কপালে ছিল চিন্তার ভাঁজ৷ পিকের টিমের তৎপরতা এবং স্বয়ং মমতার ফোনেও শেষ রক্ষা হয়নি৷ পদত্যাগ করেছেন শুভেন্দু৷

এরপর থেকেই একের পর এক তৃণমূল নেতার মুখে শোনা যাচ্ছে দলবিরোধী সুর৷ দিন কয়েক আগে ব্যারাকপুরের বিধায়ক শীলভদ্রও সাফ জানিয়ে দেন যে তিনি আগামী নির্বাচনে দলের হয়ে দাঁড়াচ্ছেন না ভোটে৷ এবার শাসকদলের কাছে আরও এক সমস্যা হয়ে দাঁড়ালেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়৷ শনিবার একটি রাজনৈতিক সভাতে রাজীবের মুখে শোনা যায় দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ,উগড়ে দেন ক্ষোভ৷ হরিদেবপুরের সেই সভা থেকে রাজীব দাবী করেন যে “স্তাবকতা করতে পারলে নম্বর বেশি৷” এমনকি এও বলেন যে যারা ঠাণ্ডা ঘরে বসে মানুষকে ঠকাতে চাইছে তারাই থাকছে দলের সামনের সারিতে আর যারা সত্যই মানুষের কাজ করতে ইচ্ছুক তাদের পিছনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে৷ ভালোকে ভালো আর খারাপকে খারাপ বলেন বলে তাকেও দল সাইড করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি৷ ঠিক এই সভার পরেই উত্তর কলকাতার কিছু এলাকায় রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের সমর্থনে পোস্টার৷ দুদিন আগে একইরকমভাবে দক্ষিণ কলকাতার কিছু জায়গায় দেখা গিয়েছিল শুভেন্দুর সমর্থনে দাদার অনুগামীদের পোস্টার৷ তাহলে কি শুভেন্দু,শীলভদ্র ,অতীন ঘোষের পর এবার রাজীব? উদ্বেগ বাড়ছে শাসকমহলে৷

রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের দলবিরোধী মন্তব্যের পর থেকেই নয়া জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে৷ এ বিষয়ে ফিরহাদ ববি হাকিমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,”একজন শেয়াল হুক্কা হুয়া করছে,পাশ থেকে শুরু হুক্কা হুয়া৷” পাশাপাশি ফিরহাদ এও বলেন যে ডিপ্রেশন এক অদ্ভূত রোগ৷ একজনকে দেখলে আরেকজনেরও ডিপ্রেশন হয়৷ দলের বন্ধুদের উদ্দেশ্যে মেয়রের বার্তা যে ডিপ্রেশনের কোনো স্থান এখন নেই,তারা সকলেই যে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সৈনিক তা যেন তারা মনে রাখে৷ শুভেন্দুর পদত্যাগকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছিল তবে কি এবার তিনিও যোগ দিতে চলেছেন গেরুয়াশিবিরে?

ঠিক একই প্রশ্ন উঠছে রাজীবকে ঘিরেও৷ হরিদেবপুরের সভাতে তার মুখে দলবিরোধী মন্তব্য শোনার পর থেকেই তার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠছে রাজনৈতিক মহলে৷ বিজেপীর রাজ্য সভাপতি পরিস্থিতি বুঝে রাজীবকেও আহ্বান জানিয়েছেন দলে এবং এও বলেন যে তৃণমূল ভাঙছে,একে একে সকলেই ছেড়ে যাবেন ,দুদিন বাদে দলটাই উঠে যাবে৷ রাজীবের পক্ষ নিয়ে দিলীপের বক্তব্য , “রাজীব ভালো ছেলে,ভাল কাজ করছিল ,ও দলে আসতে চাইলে স্বাগত৷”

শনিবারের সভাতে রাজীব দাবী করেন যে দলের অনেকেই অসন্তুষ্ট হচ্ছেন ,দলের উচিৎ তা খোঁজ নেওয়া৷ তার এহেন মন্তব্যের পর একহাত নিয়েছেন মন্ত্রী অরূপ রায়৷ তিনি বলেন,”চোরের মায়ের বড়ো গলা,যারা বেশি পায় তার বেশি চায়৷” রাজীবের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অরূপবাবু এও বলেন যে একদল শুধু নিতে এসেছে ,দলের জন্য তাদের কোনো আত্মত্যাগ নেই আসলে৷পাশাপাশি তৃণমূলের আরেক নেতা কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ও বনমন্ত্রীকে নিশানা করতে ছাড়েননি৷ তিনি বলেন যারা যাবেন চলে যাক, শুভেন্দুও চলে গেছে৷ তিনি সোচ্চারে বলেন , “সুর অসুর বুঝি না,একটাই সুর মমতা বন্দোপাধ্যায়৷” এবারে কি রাজীব যোগ দেবেন বিজেপিতে? এই প্রশ্নে ফিরহাদ বলেন বিজেপি রাজীবকে গ্যাস খাওয়াতে চাইবে৷ রাজীব বুদ্ধিমান ,পরিণত ছেলে৷ হয়তো সে গ্যাস খাবে না৷

স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেও তৃণমূলের অভ্যন্তরের পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না৷ শুক্রবার কালীঘাটের সভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমোর কড়া বার্তার পরেই বনমন্ত্রীর গলায় শোনা গেল বিরোধী সুর৷ তবে কি সত্যিই ভাঙছে তৃণমূল? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের৷