হায়দ্রাবাদের পুরভোটে কিং মেকার ওয়েইসি,এরপর নজর বাংলার মাটিতেও

গ্রেটার হায়দ্রাবাদ মিউনিসিপাল নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ফল করল ওয়েইসিবাহিনী৷ এবারের নির্বাচনে প্রায় কিং মেকারের ভূমিকায় দেখা গেল মিম সুপ্রিমো আসাদউদ্দীন ওয়েইসিকে৷ হায়দ্রাবাদের মাটিতেও ঝড় তুলেছে গেরুয়াবাহিনী৷ কিন্তু তারপরেও নিজের গড় ভোট ধরে রেখেছে সেই মিম—ই৷

হায়দ্রাবাদে বিজেপি আসায় বেশ ভালোরকম ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে টীআরএস৷ তার প্রভাব পড়ে মিমের ভোটবাক্সে৷ তবে এই মুহুর্তে যা পরিস্থিতি তাতে সমীকরণ বদলাচ্ছে৷ সেক্ষেত্রে টিআরএস—এর সাথে হাত মেলাতে পারেন ওয়েইসি৷ এবারের নির্বাচনে ১৫০টি আসনের মধ্যে ৫১টি প্রার্থী দিয়েছিল ওয়েইসির দল ৷ এর মধ্যে ৪৪টি আসনে জিতেছে ওয়েইসি৷ বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে সদ্যই জিতেছে ওয়েইসি মাত্র ৫টি আসনে৷হায়দ্রাবাদে খুব বেশি লোকসানের মুখে পড়তে হয়নি ওয়েইসির দলকে৷

নির্বাচনের প্রচারেও মিম টার্গেট করেছিল পদ্মশিবিরকেই৷ বিহারে ৫টি আসনে জেতার পর হায়দ্রাবাদের এই ফল স্বাভাবিকভাবেই অক্সিজেন যোগান দিল তাদের৷ স্ট্রাইক রেট দাঁড়ালো প্রায় ৮৬শতাংশেরও ওপরে৷ তবে নির্বাচনের প্রচারে পিছিয়ে থাকেনি বিজেপিও ৷ অমিত শা এসেছিলেন প্রচারে এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়েও টার্গেট করেছিল ওয়েইসিকে৷ তবে জবাব দিয়ে দিল বিজেপি৷ এবারের ভোটে ওয়েইসি রেখেছিল হিন্দু দলিত প্রার্থীও৷স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যাকে বেশি জোর দিয়েছিল মিম,নিশানা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকারকে৷ তার ফলেই মিমের দিকে ঝুঁকলো ভোটব্যাঙ্ক৷

ত্রিশঙ্কু হায়দ্রাবাদের পুরভোটে ১৫০টি আসনে টিআরএস পেয়েছে ৫৬টি আসন৷নির্বাচনের ফলাফলের পরেই সাংবাদিক বৈঠকে টিআরএস—এর প্রশংসা করেন ওয়েইসি৷ টিআরএসের সাথে পরবর্তীকালে মিম জোটের পথে হাঁটতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের অনেকাংশই৷ তাতে ওয়েইসির ঘাঁটি আরও শক্ত হবে৷ তবে বিজেপিও প্রায় সমান মাত্রায় টক্কর দিতে প্রস্তুত৷ হায়দ্রাবাদের পর ওয়েইসির চোখ রয়েছে বাংলার ওপরেও৷ পুরভোটের ফলাফল বেশ বাড়তি শক্তি দেবে মিমকে এ কথা স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে৷