ভোট আসতে এখনও ৫ মাস, তবে এখন থেকেই ভোট ম্যানেজমেন্ট টিম তৈরি করছে বিজেপি।

সামনে বাংলার ভোট। ওটাই এখন আসল লক্ষ্য। এখন থেকেই ঘাম ঝরাতে শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। জানা গিয়েছে, এই ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট টিম তৈরি হয়েছে বিজেপি’‌র ১১৭ জন সদস্যকে নিয়ে। এই ১১৭ জন ৩১টি ইউনিটে ছড়িয়ে পড়বে। সেখান থেকে তাঁরা নির্বাচনী প্রচার করতে শুরু করবে। কিভাবে তা করা হবে?‌ দলীয় সূত্রে খবর, অনাবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে সমন্বয়, তথ্য সংগ্রহ, বুথ ম্যানেজমেন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় এবং আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হবে।এবার বিজেপি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পাঁচ মাস আগেই নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি দল গঠন করেছে।

সেই নির্বাচনী ম্যানেজমেন্ট দলকে মোট ৩১টি ইউনিটে ভাগ করা হয়েছে। ইউনিটগুলির মূল কাজ হবে দলের প্রতিটি স্তরের সঙ্গে সমন্বয় তৈরি করা, তথ্য সংগ্রহ করা। বুথ ভিত্তিক কাজ করবে ওই দলগুলি। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচালনার ক্ষেত্রেও দলটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। বিজেপির পক্ষ থেকে জানান হয়েছে প্রতিটি সেলেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যস্তরের নেতাদের।

বিজেপি সূত্রে খবর, এই বিষয়গুলির পাশাপাশি আইনি বিষয়ও সামলাবে ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট টিম। বিজেপি’‌র এক প্রথমসারির নেতা বলেন, ‘‌বিজেপি’‌র বর্ষীয়ান নেতারা এখানে থাকবেন। এছাড়া সাংসদ–বিধায়ক–সহ বহু সেল কাজ করবে। তবেই তো সাফল্য আসবে।’‌ উল্লেখ্য ২০১৯ সালে বিজেপি ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল এই রাজ্য থেকে। অর্থাৎ ৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১৮টি আসন পায়।

রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেই ১৮টি জয় পেয়েছিল গুরুয়া শিবির। যা তুমুলভাবে উদ্বেগ বাড়িয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের। আর সেখান থেকেই অক্সিজেন পেয়ে আগামী আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেতে মরিয়া চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। তবে এই ম্যানেজমেন্ট টিম মূলত বিজেপির ভোট কুশলী অমিত শাহর নেতৃত্বে কাজ করবে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে ইউনিটের প্রধানরা।

সাংসদ ও বিধায়করা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজকরবে। তবে কয়েকটি সেলে একজন মাত্র রাজ্য়স্তরের নেতৃত্ব রয়েছেন। প্রতিটি সেলের মাথায় একজন প্রবীন কর্মীকে ইনচার্জ হিসেবে রাখা হয়েছে। ইস্তাহার কমিটিতে রয়েছে স্বপন দাশগুপ্ত ও অনুপম হাজরার নাম। আর এমপি প্রভাস-এর দায়িত্ব রয়েছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। গত লোকসভা নির্বাচনে দুর্দান্ত ফল করেছিল বিজেপি। ভোটের জন্য একেবারে তৈরি এই দল সেটাই বলা বাহুল্য।