“অনেকেই মনে করেন আমি প্রধানমন্ত্রী হলে লোকসভা নির্বাচনে পার্টিকে পরাজয়ের মুখে পড়তে হত না”, আত্মজীবনীর শেষ খণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ প্রণব মুখার্জীর

দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী প্রয়াত হয়েছেন গত অগাস্ট মাসে৷ করোনা আবহেই পরলোক গমন করেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি৷ রাষ্ট্রপতি হওয়ার সাথে তিনি হয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক,কিন্তু তার আগে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পরিচিত ছিলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেতা হিসেবেই৷ ২০১২সালে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার আগে অবধি কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বভার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামলেছেন তিনি৷ দলে তাকে “চাণক্য” বলেও অভিহিত করা হত তার রাজনৈতিক দক্ষতার জন্য৷ সবমিলিয়ে কংগ্রেসের কাছে তো বটেই ,বরং গোটা দেশ আর বাঙালি জাতির কাছেও প্রণব মুখোপাধ্যায় এক গর্বের নাম৷

আগামী জানুয়ারি মাসে প্রকাশ পাচ্ছে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির লেখা শেষতম বই “দ্য মেমোয়্যার,দ্য প্রেসিডেনশিয়ান ইয়ারস”৷ এটি তার জীবৎকালের শেষ লেখা গ্রন্থ৷ বইটি প্রণববাবুর আত্মজীবনীই বলা যেতে পারে৷ এই বইতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি৷ তিনি লিখেছেন,”কংগ্রেসের অনেক সদস্যই মনে করেন ২০০৪সালে আমি প্রধানমন্ত্রী হলে পার্টিকে ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে ওভাবে শোচনীয় পরাজয়ের মুখে পড়তে হত না৷”৷ তিনি আরও বলেন যে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই দল লক্ষ্যভ্রষ্ট ৎয়ে পড়েছিল এবং তিনি এও বলেন যে এ বিষয়ে অনেকেই হয়তো একমত হবেন না৷

প্রণববাবু তাল আত্মজীবনীর শেষ খণ্ডে সরাসরি সোনিয়া গাঁধী ,মনমোহন সিং—এর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন একথা জানা গেছে প্রকাশনী সংস্থার সূত্রে৷ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আরও বলেন,”দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় আর সামলাতে পারছিলেন না সনিয়া গাঁধী৷মনমোহন সিংহের অনুপস্থিতি তৈরী করেছিল বড়ো একটা ব্যবধান৷” দীর্ঘকাল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেতা হয়েও দল সম্পর্কে হতাশা ছাড়া আর কিছু প্রকাশ করতে পারেননি প্রয়াত প্রণব মুখার্জী৷

মনে করা হয় তিনিই ২০০৪ সালে ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনিই হতে পারেন প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রী৷ কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি সনিয়া গাঁধীর সিদ্ধান্তে৷ ২০১৭সালে প্রণববাবুব বইয়ের প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হলে মনমোহন সিংহ বলেছিলেন যে “ওর মনক্ষুণ্ণ হওয়ার যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত কারণ ছিল৷”

তবে ব্যক্তিগত স্তরে প্রণববাবুর সাথে মনমোহনের সম্পর্ক ভালো হলেও তার বইয়ে সমালোচনা করেছেন ৷ লিখেছেন,”মনে করি সরকারচ্যূত হওয়াল দায় নৈতিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর ওপর বর্তায় ,কাজকর্মের থেকে জোটরক্ষার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি৷উল্টোদিকে মোদী অনেকটাই স্বৈরতান্ত্রিকসুলভ আচরণ করেছেন,সময়ই একমাত্র উত্তর দিতে পারবে যে ভবিষ্যতে ধারা বদলাবে কিনা৷”

কংগ্রেসের অভ্যন্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছিল হুকাল ধরেই৷ এরপর প্রণববাবুর আত্মজীবনীর শেষ খণ্ডে দল সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ এবং এর ফলে দলে বাড়বে আরও জটিলতা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷