“ভারতের সংবিধান মুখ্যমন্ত্রী রক্ষা না করলে আমার ভূমিকা শুরু হবে”,রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের হুঁশিয়ারি ধনখড়ের

শুক্রবার একটি প্রেস কনফারেন্স করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়৷ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এদিন অনেক কথা বললেন রাজ্যপাল৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বলেন যে উনি একজন মুখ্যমন্ত্রী,ফলে ওনাকে সংবিধান মেনেই চলতে হবে৷ নিজের কর্তব্য পালন করা থেকে দূরে থাকলে চলবে না বলেও জানান ধনখড়৷ তার ভক্তব্য,রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বহুদিন ধরেই অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় এসে ঠেকেছে৷ তিনি আরও বলেন,”ভারতের সংবিধান রক্ষা করা আমার দায়িত্ব৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করছেন না৷”

এমনকি ধনখড় এও বলেন যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের রক্ষা করাও তার কর্তব্য৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যদি নিজের দায়িত্ব পালন না করেন ,সংবিধান মেনে না চলতে থাকেন তাহলে এবার দায়িত্ব নেবেন তিনি নিজেই৷ মুখ্যমন্ত্রী নিজের দায়িত্ব না পালন করলে রাজ্যপালের ভূমিকা শুরু হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন প্রেস কনফারেন্সে৷

গতকাল বিজেপির রাজ্য সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ের ওপর হওয়া হামলাকে কড়া ভাষায় নিন্দে করেন রাজ্যপাল৷ তিনি বলেন,”কালকের দিন গণতন্ত্রের লজ্জার দিন৷” বাংলা সাংবিধানিক মর্যাদা ভাঙছে৷ একটি সর্বভারতীয় দলের সভাপতিকে কোনো পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি,বাংলার পুশিশ প্রশাসন সম্পূর্ণই ব্যর্থ বলে অভিযোগ ধনখড়ের৷

জেপি নাড্ডাকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে একটি বয়ান প্রকাশিত হয়েছে ৷ সেখানে নাড্ডাকে বহিরাগত বলে উল্লেখ করা হয়েছে৷ এই বয়ানকে কটাক্ষ করে জগদীপ ধনখড় বলেন,”বিজেপির সভাপতিকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক৷”

বাংলায় গণতন্ত্রের শাসন চলে,তাই এখানে সকলের সমান বলার অধিকার আছে৷ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতিকে “বহিরাগত” বলা আসলে অত্যন্ত নিন্দাজনক এবং পাশাপাশি ধনখড় একে “সংবিধানের অপমান” বলে উল্লেখ করেন৷ তিনি প্রশ্ন করেন,”সংবিধানের আত্মায় আর কত হামলা হবে?”

এদিন প্রেস কনফারেন্সে ধনখড় আরও বলেন যে ,মুখ্যমন্ত্রী যদি নিজের দায়িত্ব পালন না করেন তাহলে আমার ভূমিকা শুরু হবে”৷ এমনকি এও জানান যে গতকালের হামলা নিয়ে DCP—কে রিপোর্ট করা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যপাল অনুরোধ জানান যাতে তিনি সংবিধান মেনে চলেন৷ কাউকে বহিরাগত বলে দেগে দেওয়া খুব বিপজ্জনক বলে মনে করেন ধনখড় এবং তিনি আশা রাখেন যে মুখ্যমন্ত্রী তার কথা শুনবেন৷

এছাড়াও রাজ্যপাল বলেন বাংলায় তিনি শান্তি চান,এমন প্রশাসনের কারণে তার লজ্জা লাগে৷ গতকালের ঘটনাকে ভিত্তি করে ধনখড় দাবী করেন যে এই ঘটনা আসলে “গণতন্ত্রের হত্যা৷”