“আণ্ডার দ্য টেবিল আণ্ডারস্ট্যান্ডিং করার কোনো ইচ্ছে আমার নেই”, ক্ষুদ্ধ বাবুল সুপ্রিয়

তৃণমূলের অভ্যন্তরে ক্রমাগতই বেড়ে চলেছে চাপানউতোর৷ নির্বাচনের প্রাক্কালে দলের যোগ্য সংগঠক বা নেতা বলে যারা এতদিন পরিচিত ছিলেন আর কাজ করেছেন মমতা ব্যানার্জীর সৈনিক হিসেবে দিয়ে যাচ্ছেন ইস্তফাপত্র৷ শুভেন্দু অধিকারীকে দিয়ে শুরু হয়েছিল,তারপর তালিকাটা ক্রমেই বেড়েই চলেছে! যারা তৃণমূল ছেড়ে দিচ্ছেন,তাদের ক্ষেত্রে ক্রমেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে৷ এরই মধ্যে আরও এক নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি আসানসোলের পুর—প্রশাককের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন৷ দিন কয়েক আগেই দলের উপরমহলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের “স্মার্ট সিটি” প্রকল্প রূপায়ণে বাধা দিয়েছে রাজ্য সরকার৷ তাই আসানসোল উন্নয়নের পথে যেতে পারেনি৷

এহেন পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন হয়তো এবার তিনি যোগ দিতে চলেছেন বিজেপিতেই৷ তবে ইতিমধ্যে এই বিষয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে! জিতেন্দ্র তিওয়ারির সাথে নাকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র “আণ্ডার দ্য টেবিল” বৈঠক হয়েছে বলে দাবী করছেন অনেকেই৷ এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন বাবুল সুপ্রিয়৷ গতকাল রাতেই তিনি একটি ভিডিও শেয়ার করেন তার ফেসবুক পেজে৷ স্পষ্ট জানান, তার সাথে তৃণমূলের নেতাদের কোনো আণ্ডার দ্য টেবিল কথা হয়নি৷ সে কারণে তারা বিজেপি আসছেন এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে ভুয়ো৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এদিন ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “আসানসোল অনেক ঐতিহ্যশালী প্রাচীন শহর, তার অলিতে গলিতে যেভাবে এতদিন বিজেপি কর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে, নিজেদের প্রাণ দিয়েছে তা আমি ভুলে যাইনি৷”

সরাসরি মমতাকে নিশানা করে বাবুল বলেন, যেসব তৃণমূলের নেতারা আসানসোলে মাননীয়ার নির্দেশে বিজেপি কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে,কাজে বাধা দিয়েছে তাদের মধ্যে জিতেন্দ্র তিওয়ারি অন্যতম৷ বাবুল সুপ্রিয় জোর গলায় বলেন, “সেইসব তৃণমূল নেতাদের বিজেপিতে ঢুকতে দেব না, সেই মানসিকতা আমার নেই৷” পাশাপাশি তিনি এও জানান, “এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ৷” আসানসোলকে দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করছেন নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বলেও জানান বাবুল সুপ্রিয়৷