“দুপয়সার রাজনীতি তার দল করে বাংলায়”, মহুয়া মৈত্রের ঔদ্ধত্য নিয়ে তীব্র নিন্দায় সরব অনির্বাণ গাঙ্গুলী

দিনকয়েক আগে দলীয় একটি সভাতে সাংসদ মহুয়া মৈত্র সাংবাদমাধ্যমকে “দু’পয়সার প্রেস’ বলে কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন৷ তার জেরে স্বভাবতই ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে সংবাদমাধ্যম৷ একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম তাকে বয়কট করার ডাক দেয়৷ সেদিনের সভাতে মহুয়া মৈত্রকে যখন একজন সংবাদমাধ্যমের লোক কিছু প্রশ্ন করেন, তখনই তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেন তার সাথে৷ শুধু এটুকুই নয়,পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের সেই প্রতিনিধিকে সরাসরি বেরিয়ে যেতে বলেন৷ আরও বলেন যে দলীয় বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের ঢোকার অনুমতি নেই৷ এরপর কৃষ্ণনগরের সাংসদ বাইরে বেরিয়ে আসার পর যখন মিডিয়া তাকে ঘিরে ধরে তখনই তিনি সম্পূর্ণ সৌজন্যসীমা অতিক্রম করে সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে “এরা তো দু’পয়সার প্রেস”৷ এরপরই ক্ষুদ্ধ হয়ে পড়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা৷ তারা তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে বলেন,”আমি কাউকে কোনো আক্রমণ করিনি,আমি কিছু জানি না৷”

স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনার পর থেকেই বিতর্ক ছড়িয়েছে৷ কয়েকদিন কেটে গেলেও সংবাদমাধ্যমের লোকেরা মহুয়া মৈত্রের ওপর অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ৷ তার একটাই কারণ, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা দিন—রাত খবর মানুষের কাছে পৌঁছোনোর জন্য রোদ—ঝড় মাথায় নিয়ে কাজ করে আর তাদেরকেই কিনা “দুপয়সার প্রেস” বলে আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সাংসদ? এই প্রসঙ্গে এবার প্রতিক্রিয়া জানালেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অধিকর্তা ডঃঅনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়৷ এই মুহুর্তে বঙ্গ—রাজনীতিতে এক অন্যতম নতুন মুখ বলা চলে তাকে৷ বিজেপির রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে তাকে৷ গতকাল তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন এবং মহুয়া মৈত্রকে পাল্টা দেন৷ ভিডিওতে তিনি প্রথমেই সংবাদমাধ্যমের সাথে মহুয়ার খারাপ ব্যবহারের একটি ছোট ভিডিও ক্লিপ জুড়েছেন৷ সেখানে দেখা যাচ্ছে মহুয়া মেত্র প্রেসের একজন প্রতিনিধিকে বেরিয়ে যেতে বলছেন৷ অনির্বাণ গাঙ্গুলী এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন৷ তিনি বলেছেন, “দুপয়সার রাজনীতি মহুয়া মৈত্রের দল করে৷” কৃষ্ণনগরের সাংসদ নিজেকে শিক্ষিত বলে দাবী করেন এবং একসময়ে তিনি লণ্ডনে থেকে চাকরী করতেন, অনির্বাণের প্রশ্ন, “একজন লণ্ডনে থেকেও কি করে এমন নিম্নমানের হতে পারেন?”

পাশাপাশি অনির্বাণবাবু সরাসরি তোপ দাগেন তৃণমূল সরকারকে৷ তৃণমূলের দলীয় নেত্রীর মতোই মহুয়া মৈত্রের অবনতি ঘটছে, তিনি আসলে দলীয় নেত্রীরই প্রতিবিম্ব বলে দাবী অনির্বাণের৷ এই কোভিড পরিস্থিতিতেও তৃণমূল সরকার যেভাবে মানুষের পয়সা নিংড়ে নিয়েছে তা নিয়ে নিন্দা প্রকাশ করে অনির্বাণ গাঙ্গুলী বলেন, “মহুয়া মৈত্রের দল চালচোর, কাটমানি এসব করে বাংলাকে পথে বসিয়েছে, গত ৯বছর ধরে এমনটাই চলছে৷” মহুয়া মৈত্রের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন অনির্বাণবাবু৷

পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করে বলেন, “গত সাত বছরে গুজরাটে কখনও মোদীজি সংবাধমাধ্যমকে রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে যাওয়া বা তাদেরকে গালিগালাজ করেননি৷”