সাড়ে ৯ লক্ষ ট্যাব জোগাড়ে সমস্যা! সরকারি স্কুল ও মাদ্রাসার প্রত্যেক পড়ুয়াকে ১০ হাজার টাকা দেবে মমতা সরকার

চলতি বছরে করোনা থাবা বসিয়েছে গোটা বিশ্বে৷ গতবছর ডিসেম্বর মাসে চিনে এর সূত্রপাত হলেও ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে সারা পৃথিবীতেই৷ সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং যেহেতু একমাত্র হ্রাস করতে পারে করোনার সংক্রমণ,তাই চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই বন্ধ স্কুল —কলেজ সহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান৷

লকডাউন পর্ব মিটে গেলেও এখনও খোলেনি স্কুল—কলেজ৷ পড়াশোনাও উঠেছে লাটে! করোনা আবহে বেশিরভাগ স্কুলই গেছে অনলাইন পড়াশোনার পথে৷ তবে এ রাজ্যের অনেক ছাত্রছাত্রীরই আর্থিক সামর্থ্য নেই অনলাইনে পড়াশোনা করার,বেশিরভাগের কাছে নেই স্মার্টফোনও৷ এ দিকটিকে বিবেচনা করে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে রাজ্যের সাড়ে ৯ লক্ষ পড়ুয়াকে অনলাইনে স্কুলে পড়াশোনার জন্য দেওয়া হবে ট্যাব৷ এবার সে পথেও এল বিপত্তি৷ মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য হাঁটল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্তের পথে৷

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে অনলাইন ক্লাস করার জন্য রাজ্যের সাড়ে ৯ লক্ষ উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষার্থী ও হাই মাদ্রাসার পড়ুয়াকে দেওয়া হবে ১০,০০০টাকা৷ তিন সপ্তাহের মধ্যেই এই টাকা পৌঁছে যাবে প্রত্যেক পড়ুয়াদের আকাউন্টে৷
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয় যে পড়ুয়াদের ট্যাব দেওয়াকে কেন্দ্র করে ডাকা হয়েছিল টেন্ডার৷ তবে সেখানে দেখা যায় কোনো সংস্থাই একসাথে এতো ট্যাব সরবরাহ করতে পারবে না৷ যেহেতু চিনের সাথে ব্যবসায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্র সরকার,তাই কোনোভাবেই চিনা ট্যাব কেনাও সম্ভবপর নয়৷ সর্বমোট দেড় লক্ষ ট্যাব জোগাড় করা যাচ্ছে৷

মুখ্যমন্ত্রী এদিন তাই বলেন যে পড়ুয়াদের ১০০০০ করে টাকা দিলে তারা অনলাইন ক্লাসে যোগ দেওয়ার জন্য স্মার্টফোন বা ট্যাব কিনে নিতে পারবে৷

তবে এ নিয়েও ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে বিতর্ক! কেউ কেউ বলছেন,ছাত্রছাত্রীদের সকলের কাছে ওই টাকা পৌঁছবে না,আবার একপক্ষের দাবী যে ওই টাকা পড়ুয়ারা অন্য কোনো খাতে খরচা করবে৷