মমতাকে কটাক্ষ করতে এবার মহম্মদ সেলিমের বক্তব্য ধার দিলীপ ঘোষের

বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই বেড়ে চলেছে বিজেপি —তৃণমূল তরজা৷ ২০২১—এ বাংলায় সরকার গড়বে কে? এ নিয়ে রোজই সরগরম রাজ্য রাজনীতি৷ দুপক্ষের মধ্যে তরজা বাড়ার সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে একে অপরকে বাক্ —আক্রমণের বহর৷ আর এই বিষয়ে যিনি সর্বদাই খবরের শিরোনামে থাকেন তিনি হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ তার চাঁচাছোলা মন্তব্যের জেরে তিনি প্রায়ই থাকেন রাজ্য রাজনীতির শীর্ষে৷ তার মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হলেও অনেকেই মনে করেন যে তার খবরে থাকার ক্ষেত্রে বিশেষ মুন্সিয়ানা রয়েছে,দিলীপবাবু নিজেও অবশ্য এ কথা স্বীকার করেন৷ তার সাফ কথা,রাজনীতি করতে এসেছেন৷ বিতর্ক যত বাড়বে ততই বাড়বে প্রচার—এই নীতিতেই বিশ্বাসী বিজেপির রাজ্য সভাপতি৷

সম্প্রতি দিলীপ ঘোষ সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের বক্তব্য ধার করেন৷ দিল্লির কৃষক আন্দোলোনকে সমর্থন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়৷ সেই সমর্থনকেই এবার বিদ্রূপ করলেন দিলীপ ঘোষ৷ সারা দেশজুড়ে কৃষিবিল প্রত্যাহারের দাবীতে আন্দোলোন করছে কৃষকরা৷ আজ কৃষকরা ডেকেছিল ভারত বনধ্ ৷ এই বনধ্কে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ এদিনের সভাতেও মমতা বলেন, “কৃষকস্বার্থে ২৬দিন অনশন করেছিলাম,তাদের জন্য মন কাঁদে৷”

কয়েকদিন আগে সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম এই প্রসঙ্গে বলেছিলেন যে “বড় বিয়েবাড়ি দেখলে যেচে ঢুকে পড়েন৷” মমতা আসলে নিজের স্বার্থে বনধ্ —কে সমর্থন করছেন,সংসদ ও বিধানসভায় নিজের জায়গা ঠিক করার দাবী জানান সেলিম৷ তিনি মমতার উদ্দেশ্যে আরও বলেন যে , “উনি বড়ো ইভেন্ট ম্যানেজার”৷ এবার দিলীপ ঘোষ সেলিমের বক্তব্যই ধার করলেন মমতাকে কটাক্ষের জন্য৷ তিনি বলেন যে,”সেলিম ভালই বলেছেন,বিনা নেমতন্নে তিনি বিয়েবাড়িতে ঢুকে পড়েছেন৷”

বিগত দশ বছরে কৃষকদের জন্য কিছু করেননি তিনি এবং উপরন্তু কেউ তাকে না ডাকলেও বনধ্ তিনি সমর্থন করেছেন৷ এর কোনো যুক্তি নেই বলে দাবী দিলীপের৷ বিজেপি নেতা আরও বলেন যে মমতার হাতে এখন কোনো ইস্যু নেই৷ সাধারণ মানুষ,বিজেপি,বিরোধীপক্ষরা সব ঝাঁপিয়ে পড়েছে তাই এসব করে মুখ্যমন্ত্রী খড়কুটো আকড়াতে চাইছেন এখন৷

দিলীপ ঘোষ মমতাকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন যে মানুষই তাকে বিদায় দেবে এবার৷ মমতার আন্দোলোন কোনোদিন সফল হবে না বলেও দাবী তার৷ তবে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার আগে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সেলিমের তরফে৷