“বিজেপি দুই অঙ্কের আসনসংখ্যা পেরোতে পারবে না,ভুল প্রমাণিত হলে কাজ ছেড়ে দেবো,দিলীপ ঘোষরা পারবেন ছাড়তে?”বিস্ফোরক পিকে

বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রায় আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে শাসকদল,কম যায় না বিরোধীরাও৷ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে,ততই তৃণমূল—বিজেপি তরজা ততই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে৷ তৃণমূল কংগ্রেস পুনরায় বাংলার ক্ষমতা পেতে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের হাতে তুলে দিয়েছে দলের পরিচালনা ভার৷ এই সেই পিকে,যাকে এবং যার টিম নিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরে একাংশের ক্ষোভের নেই অন্ত৷ এবার পিকে’র করা একটি টুইট নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল৷ আসলে ঘটনার সূত্রপাত সোমবার৷ এদিন তিনি একটি টুইট করেন,তাতে লেখেন, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দুই অঙ্কের আসনসংখ্যা পেরোতে পারবে না৷ অর্থাৎ সহজভাবে বললে প্রশান্ত কিশোরের মতে, বিজেপি একশোটা আসনও পাবে না৷

এমনকি তিনি এও বলেন যে তিনি এ ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী,যদি তার কথা না মেলে তবে তিনি টুইট করাই ছেড়ে দেবেন৷ পাশাপাশি প্রশান্ত কিশোর এও দাবী করেন যে বিজেপিকে নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম মাতামাতি করলেও বাংলায় বিজেপী দুই অঙ্কের আসন পেতে হিমশিম খেয়ে যাবে! তার এই টুইটকে ঘিরে বিতর্ক তৈরী হয়৷ এরপর এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন ,”আমি ভুল প্রমাণিত হলে কাজ ছেড়ে দেবো৷ কৈলাস বিজয়বর্গীয়,বাবুল সুপ্রিয়,দিলীপ ঘোষরা কী রাজনীতি ছাড়বেন যদি আমার কথা মিলে যায়?” প্রশান্ত কিশোর প্রায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন সাক্ষাৎকারে৷

এই টুইটকে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতৃত্ব৷ বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষরা বলেন যে এসব কিছুই হবে না,উল্টে পিকে—কেই কাজ ছাড়তে হবে৷ প্রশান্ত কিশোরও পাল্টা দিতে ছায়েননি৷ তার প্রতিশ্রুতি ,গণনা না মিললে কাজ ছেড়ে দিতে তিনি রাজি,কিন্তু দিলীপ ঘোষরা রাজনীতি ছাড়তে পারবেন? প্রশ্ন রাখেন পিকে৷ ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অভ্যন্তরেই বেশ অনেকেই পিকে’র টিম নিয়ে ক্ষুদ্ধ,তা তারা প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন৷ সম্প্রতি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জীও তাকে ডেকে বৈঠক করেন৷ নির্বাচনের আগে দলে ভাঙন কেন তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন পিকে৷

অন্যদিকে বিজেপি তৃণমূলকে আক্রমণ করছে প্রতিনিয়ত,তৃণমূলকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলেও উল্লেখ করছে বিজেপি নেতৃত্ব৷ তবে এরই মধ্যে টুইটে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার মধ্যে প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক অভিসন্ধি আসলে দলকে উদ্বুদ্ধ করা,এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷