বিজেপি কারও পথ চেয়ে বসে নেই,নিজেদের দমেই বাংলায় পরিবর্তন আনবো আমরা:শুভেন্দু —অভিষেক বৈঠক নিয়ে দিলীপ

বহুদিন যাবৎ রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে৷ শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগকে ঘিরে নানান কথা চলছিলো চারিদিকে৷ অনেকে ধরেই নিয়েছিল যে শুভেন্দু মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন মানেই এবার দল থেকেও ইস্তফা দেবেন এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপ হতে চলেছে বিজেপিতে যোগ দেওয়া৷ সামনেই বিধানসভার নির্বাচন,এই সময়ে যদি একজন হেভিওয়েট নেতা বিজেপিতে যোগ দেন তবে বঙ্গে বিজেপির ঘাঁটি নিঃসন্দেহেই শক্ত হত একথা বলার অপেক্ষা রাখে না৷

কিন্তু,মঙ্গলবার শুভেন্দু—অভিষেক—সৌগত সহ পিকের টিমের বৈঠকের পরই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটে৷ সৌগত রায় জানিয়ে দেন যে শুভেন্দু দলেই থাকছেন৷ মন্ত্রীত্ব থেকে ইস্তফা দিলেও যে তিনি দল ছাড়ছেন না একথা নিজেও আগে জানিয়েছিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক৷

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই গোটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জানান যে শুভেন্দু না এলেও বাংলায় ধীরে ধীরে ঘর সাজাতে শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি৷ পাশাপাশি এও জানান যে লোকসভা নির্বাচনেই বিজেপি দেখিয়েছে তার ক্ষমতা৷ ২০২১ —এ বাংলার ক্ষমতা যে যাবে বিজেপির হাতেই তা সাফ জানিয়ে দেন দিলীপবাবু৷

এমনকি লোকসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষের হাত ছিলো বিজেপির ওপর ,তাই নিজেদের দমে পরিবর্তন এনেছে বিজেপি,তার প্রমাণ পাওয়া ভোটের ফলাফলেই৷ ফলে বিধানসভা নির্বাচনে যে তারা পুরোপুরি পরিবর্তন আনতে চলেছে বাংলায় তার ইঙ্গিত দিলীপ ঘোষের গলায় ছিলো স্পষ্ট৷

তিনি আরও বলেন যে বিজেপির কর্মীদের কাজ দেখেই বাংলার মানুষ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন আর আগামীদিনেও থাকবেন৷ যদি কেউ তাদের সাথে হাত মেলাতে চান তাকেও স্বাগত জানাবেন তারা৷ শুভেন্দুর সাথে পিকের টিম আগেও কথা বলতে চেয়েছিল,কিন্তু লাভ হয়নি কিছুই৷ তবে এরপর মঙ্গলবারে বৈঠকের পরেই হঠাৎ বরফ গলতে শুরু করলো কীভাবে? এই সূত্রে দিলীপবাবু বলেন,”তৃণমূলে এতদিন গৃহযুদ্ধ চলছিল ,এখন মানভঞ্জনের পালা চলছে৷”

তিনি বুধবার সকালে এও বলেন যে , “যেসব বাবা—কাকাদের কেউ পাত্তা দিত না,তারা এখন রাস্তায় নেমেছেন”৷ ফলে এর জল কতদূর গড়ায় সেটাই এখন একমাত্র দেখার বিষয়৷ শুভেন্দু নিজে অবশ্য বৈঠকের পর থেকেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন৷