আচমকাই স্থগিত মমতার অক্সফোর্ডের বক্তৃতা,ষড়যন্ত্রে কেন্দ্র সরকার? প্রশ্ন মমতার

অক্সফোর্ড ইউনিয়নে বক্তৃতা রাখার কথা ছিলো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের৷ হঠাৎই অনিবার্য কারণবশত তা হয়ে পড়ে স্থগিত৷ গত ২রা ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটে নাগাদ তার বক্তৃতা পাঠের সূচী নির্ধারিত ছিল৷ বক্তৃতা শুরুর ঠিক পঁয়তাল্লিশ মিনিট পূর্বে অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে ই—মেইল মারফৎ জানানো হয় যে বক্তৃতাটি স্থগিত করা হচ্ছে৷

স্থগিতের ফলে ক্ষুদ্ধ মুখ্যমন্ত্রী বর্তমানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে দায়ী করে ক্ষোভ উগড়ে দেন৷ সরাসরি কোনো নাম না নিলেও আক্রমণের আঙুল তোলেন কেন্দ্রীয় সরকারের দিকেই৷ বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে স্পষ্টভাবে বলেন,”এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক কারণ৷” এদিন তিনি বক্তৃতা স্থগিতের ব্যাপারটিকে “অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি” বলেও ব্যাখ্যা করেন৷ অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্ক সভায় অংশ নিতে পারলে মমতা বন্দোপাধ্যায়—ই হতেন দেশের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী৷ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার,মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানের সাথে একই তালিকায় নাম থাকতো মমতারও৷

বক্তৃতা শুরুর পঁয়তাল্লিশ মিনিট আগেই বা কেন অক্সফোর্ডের এই সিদ্ধান্ত তা নিয়ে তদন্তের দায়ভার মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকেই৷ অক্সফোর্ডকে দোষারোপ করেননি মুখ্যমন্ত্রী,বরং তাদের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে তা বুধবার নবান্ন জানিয়েছে টুইটের মাধ্যমে৷ নতুন সময়সূচির আর্জিও জানানো হয়েছে ইউনিয়নের তরফে৷ তবে কেন্দ্র সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে মমতা ব্যানার্জী বিদ্রুপ করে বলেন যে বাংলাকে যারা অসম্মান করছে আজ,তাদেরকেই একদিন বাংলার কাছে ছুটে আসতে হবে৷ বাংলা কারও কাছে যায় না৷

পাশাপাশি কটাক্ষ করে এ প্রসঙ্গে বলেন,”কখনও কখনও এমন সময় আসে যখন চিল আকাশে উড়লে আমরা ভাবি ঝড় আসছে,কিন্তু ঝড় থেমে গেলেই চিল তার বাসা খোঁজে”৷ তবে এবারই নতুন নয়,এর আগেও তার ২০১৮ সালে শিকাগো সফর সময়সূচী বদলে যায়৷ তখনও মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন তার বিরুদ্ধে “অপবিত্র ষড়যন্ত্র” করা হয়েছে৷ এছাড়াও আগে চীন সফরও বাতিল হয়েছিল৷ এবারেও অক্সফোর্ডের বক্তৃতা স্থগিত হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উঠছে নানান প্রশ্ন৷ তৃণমূল নেতৃত্বূ অবশ্য এই ঘটনার জন্য কাউকে দোষ দিচ্ছে না,তবে কীভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে তাও নবান্নের তরফে ইঙ্গিত করা হয়েছে৷