একরাতের জন্যে বিয়ে করেন ‘হিজড়ে’রা! তাদের বিয়ের পদ্ধতি কেউই জানে না, উঠে এল হিজড়েদের বিয়ের অজানা গল্প

আমাদের সমাজে বিভিন্ন রকম গল্প কথা প্রচলিত আছে হিজড়ে বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সম্পর্কে। পাশাপাশি কখনো তাদের অপরাধী কখনো বা ছেলেধরা বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কাজ করছে এই সমস্ত মানুষদের জন্য।

ফলে ধীরে ধীরে একটু হলেও পরিবর্তন হচ্ছে সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অবস্থান। যদিও হিজড়েরা দলবেঁধে নিজের মত থাকতে পছন্দ করেন, তবে আর পাঁচটা মানুষের মত তাদেরও সংসার করার স্বাদ-আহ্লাদ রয়েছে।

তৃতীয় লিঙ্গের এই মানুষরা তাদের দেবতা হিসেবে পুজো করেন মহাভারতের এক চরিত্র ইরাভানকে যে প্রকৃতপক্ষে তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন এবং নাগরাজের উলুপীর সন্তান। মহাভারতের গল্প অনুসারে জানা যায় কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে প্রাণ ত্যাগ এর আগে ইরাভান কৃষ্ণের মোহিনী রূপ এর সঙ্গে এক রাতের জন্য মিলিত হন।

পরেরদিন যুদ্ধক্ষেত্রে ইরাভান প্রাণ ত্যাগ করলে মোহিনী সধবার বেশ ছেড়ে বিধবার বেশ গ্রহণ করে। তাই হিজরে বা কিন্নররাও প্রতিবছর তামিল ক্যালেন্ডার অনুসারে নববর্ষের দিন সবাই মিলিত হন দক্ষিণ ভারতবর্ষের কোভাগাম গ্রামে। যেখানের কোথাণ্ডভার মন্দিরের পুরোহিতকে দেবতা ইরাভান ভেবে বিয়ে করেন তারা।

পাশাপাশি নিজেরা ধারণ করেন কৃষ্ণের মোহিনী রূপ। কিন্তু তাদের এই বিয়ের স্থায়িত্ব মাত্র এক রাত। পরের দিন সকাল হলেই নিজেদের সধবা রুপ মুছে ফেলে ইরাভানের মৃত্যু হয়েছে ধরে নিয়ে শোক প্রকাশ করেন তারা নাচের মাধ্যমে।

প্রসঙ্গত বহু যুগ ধরে চলে আসা এই ট্র্যাডিশনে শুধুমাত্র ভারতীয় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষই নয়, সঙ্গে যোগদান করেন প্রতিবেশী দেশের কিন্নররাও।