ভ্যাকসিন অতিমারী শেষ করলেও বিশ্বমারীর সমাপ্তি সময় সাপেক্ষ,WHO পরিচালক

এই মুহুর্তে গোটা বিশ্ব একটিই বিষয় নিয়ে আতঙ্কিত ও চিন্তিত —করোনা ভাইরাস৷ গতবছর ডিসেম্বর মাস নাগাদ এই ভাইরাসটি চিনের উহান প্রদেশে সর্বপ্রথম পরিলক্ষিত হয়৷তারপর দু—তিন মাসের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বজুড়ে৷ করোনা ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে দেশে দেশে হতে থাকে লকডাউন৷

কিন্তু কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয় নি এখনও পর্যন্ত৷ ভ্যাকসিন আবিষ্কারে তৎপর হয়ে উঠেছে বেশ অনেকগুলি দেশই৷ ভাইরাসটির সংক্রমণ মাথায় চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে স্বাস্থ্যবিদদের৷

শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার একটি উচ্চ—পর্যায়ের বৈঠক সংঘটিত হয়৷ সেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার(WHO) পরিচালক ট্রেডস আধানম গেব্রেইয়েসাস জানান যে বিশ্বজুড়ে করোনা অতিমারীর বিরুদ্ধে লড়াই করার ভ্যাকসিনের রোল আউট হয়েছে৷ তবে পাশাপাশি শোনালেন সতর্কবার্তাও৷ তিনি বলেন ভ্যাকসিন আসা মানেই ভয়ঙ্কর কোভিড ভাইরাস সম্পূর্ণভাবে বিশ্ব থেকে নির্মূল হয়ে যাবে তা একেবারেই নয়৷ বরং এখন যেমন সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনে চলতে হচ্ছে তেমনই চলতে হবে,কোনোভাবেই এখনই মাস্ক খুলে ফেলা যাবে না৷ একটু অসতর্ক হলেই বাড়বে সংক্রমণের ঝুঁকি৷

WHO-এর পরিচালক অবশ্য কিছুটা নিশ্চিন্ত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন৷ তিনি বলেন,”করোনা অতিমারী শেষ হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করতে পারে বিশ্ব৷” তবে সচেতনতা বজায় রাখতে হবে৷ ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে এবং পাশের মানুদেরও সতর্ক করতে হবে৷ এভাবে বিধি মেনে চললে তবেই হয়তো একদিন করোনা ভাইরাসের দমন সম্ভব৷

ভ্যাকসিন নিয়েও এদিন গেব্রেইয়েসাস কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন৷ তিনি বলেছেন ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে বিশ্বের ধনী ও শক্তিশালী দেশগুলিই যেন শুধু সুবিধা না পায়৷ সমান্তরালভাবে সমস্ত সুবিধা ও সুফলাফল যাতে প্রান্তিক দরিদ্র দেশগুলিই পায় সেদিকে নজর রাখতে হবে৷

ভ্যাকসিনের সমবণ্টণ নিয়ে এদিন তিনি জারি করেন সতর্কবার্তা৷
বৈঠকে WHO-এর পরিচালক এও বলেন যে টিকা নেওয়ার একটা সময়ের পর গিয়ে হয়তো অতিমারী শেষ হতে পারে,কিন্তু এই গোটা বছর জুড়ে যে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হল সারা বিশ্ব তাতে বিশ্বমারী শেষ হওয়ার পথ অতটাও অনুকূল হবে না,সবটাই সময় সাপেক্ষ৷ তার মতে,এই অতিমারী বিশ্বজুড়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গীকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে৷ মানবতার মন্দ দিকটাও পর্যবেক্ষিত হয়েছে৷ ভালো আর খারাপের পার্থক্যটা মানবসমাজ আজ বুঝেছে৷ তাই অতিমারী শেষ হলেও বিশ্বমারী শেষ হয়তো সময়ের ওপরই নির্ভর করবে৷