দেশের বড়ো ব্র্যাণ্ডের মধুতে ভেজাল? সিএসই—র পরীক্ষার রিপোর্টে উদ্বেগ

মধু একটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর ও উপকারী খাদ্য তা কমবেশি সকলেরই জানা৷ ইমিউনিটি ক্ষমতা বাড়াতে মধু এক অন্যতম উপকারী এক খাদ্য৷ নিজের শরীরকে ভালো রাখতে মধু খান অনেকেই৷ কোভিড—১৯ ভাইরাসকে প্রতিহত করতে চিকিৎসকেরা বারংবার বলছেন মধু খেতে,ফলে শরীরে তৈরি হবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা৷

কিন্তু,এবার সেই মধুকে ঘিরেই সিএসই—র রিপোর্টে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ করোনাকে রুখতে এই কয়েকমাসে ভারতীয়েরা মধু খেয়েছেন অনেক বেশি পরিমাণে৷ সিএসই—র দাবী ভারতের বাজারে প্রাপ্ত সিমস্ত মধুতেই রয়েছে ভেজাল৷ ভারতীয়েরা দিনের পর দিন নিজেদের অজান্তেই মধুর বদলে খেয়ে চলেছেনে চিনি,যা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক বলা যায়৷ ভারতবর্ষ ও জামার্নির ল্যাবে সিএসই পরীক্ষা চালিয়েছে এবং তাতে দেখা গেছে যে ভারতের বাজারে বিক্রি হয় যেসব ব্র্যাণ্ডের মধু সেই সব মধুই চিনির সিরাপের সাথে মেশানো ভেজালযুক্ত৷

সিএসই এই পরীক্ষা চালিয়ে সন্ধান পেয়েছে অনেক তথ্যের,যা সত্যিই অত্যন্ত উদ্বেগজনক৷ ভারত ও জার্মানির ল্যাবে পরীক্ষার ফলে দেখা গেছে যে ৭৭শতাংশ মধুই ভেজালযুক্ত৷ ভারতে বিক্রি হয় এমন মোট ১৩টি ব্র্যাণ্ডের মধু নমুনা হিসেবে পরীক্ষায় পাঠিয়েছিল সিএসই৷ সিএএলএফ এবং এনডিডিবিতে নমুনাগুলির পরীক্ষা করা হয়৷ সর্বমোট ২২টি মধুর নমুনা পরীক্ষায় গিয়েছিল,তার মধ্যে মাত্র ৫টি ছিল সঠিক৷

তবে এই পরীক্ষার ফলাফলস্বরূপ দেখা যায় সমস্ত বড়ো বড়ো ব্র্যাণ্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ৷ শুধুমাত্র কয়েকটি ছোট ব্র্যাণ্ডই পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়৷ তবে এই নমুনাগুলি আবারও পরীক্ষায় পাঠানো হয় NMR-এ৷ আর এই পরীক্ষার ফলাফল উদ্বেগ বাড়িয়েছে৷
বড়ো বা ছোট কোনো ব্র্যাণ্ডই পাশ করতে পারে না এই পরীক্ষা৷ ডাবর,পতঞ্জলি,জান্দু,এপিস হিমালয়,হিটকারির মতো নাম করা বড় ব্র্যাণ্ডগুলিই ব্যর্থ হয় পরীক্ষায়৷

বলাই বাহুল্য যে ভারতের বাজারে এই সকল মধুর চাহিদাই সর্বাধিক৷ ১৩টি ব্র্যাণ্ডের মধ্যে মাত্র ৩টি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়৷ সাফোলা, Markfedsohna আর Nature’s nactor শুধুমাত্র উত্তীর্ণ হয় সিএসই পরীক্ষায়৷ তবে এই সমস্ত রিপোর্টকে অস্বীকার করে ডাবর সংস্থা৷ তারা বলে যে ডাবর—ই হল একমাত্র ভারতীয় সংস্থা যার নিজস্ব পরীক্ষাগারে এনএমআর পরীক্ষার সরঞ্জাম রয়েছে৷ এপিসের মুখপাত্রও দাবী করেছেন যে,তারা এই মুহুর্তে সিএসই—র রিপোর্ট সংক্রান্ত কোনো মন্তব্য করতে চান না,তারা একটি নির্দিষ্ট দিন ঠিক করে সাংবাদিক সম্মেলন করবেন এবং সেখানে এ নিয়ে বিস্তারিত কথা তারা বলবেন৷

এমনকি ইমামি—ও জানিয়েছে যে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদিত সবরকম নিয়ম মেনেই কাজ করে৷ সিএসই—র তদন্তকারী দলের সদস্য নারায়ণ বলেন যে লোকেরা নাজের অজান্তেই চিনির সিরাপযুক্ত ভেজাল মধু খেয়ে চলেছেন এবং এর ফলে তাদেরই শরীর বাড়ছে কোভিড সংক্রমণের ঝুঁকি৷

এমনকি এরই মধ্যে উত্তরাখণ্ডের জাসপুরে এমন একটি কারখানার খোঁজ মিলেছে,যেখানে প্রতিনিয়ত তৈরী হয়ে চলেছে এই ভেজাল মধু৷ প্রসঙ্গসূত্রে উল্লেখ্য , চলতি বছরের পয়ার অগাস্ট থেকে মধু রফতানির এনএমআর পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্র সরকার৷
তবে সিএসই—র পরীক্ষায় প্রাপ্ত রিপোর্ট নিয়ে আপাতত শুরু হয়েছে তদন্ত৷