সল্টলেকের বাড়িতে মিলল কঙ্কাল,ত্রিশুল,মায়ের তন্ত্রসাধনার বলি হল ছেলেই

খাস কলকাতা শহরে কুসংস্কারের হাতছানি? অন্তত এমনটাই দেখা গেল শহরের অভিজাত এলাকা সল্টলেকে৷ মায়ের তন্ত্রসাধনার জেরে মৃত্যু হয় এক যুবকের৷ মনে করা হচ্ছে মা বাড়িতে তন্ত্রসাধনার চর্চা করতেন,সেই সাধনাতেই এবার বলি হল নিজেরই ছেলে৷

গত বৃহস্পতিবার সল্টলেকের এ জে ব্লকের এক বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় কঙ্কাল৷ এরপরেই এলাকা জুড়ে উত্তেজনা ছড়ায়৷ বাড়ির মালিক অনিল মহেন্সারিয়ার ব্যবসায় বছর কয়েক আগে মন্দা দেখা যাওয়ায় স্ত্রী গীতাদেবী তন্ত্রসাধনার দিকে ঝোঁকেন৷ বাড়িতে ডেকে আনেন তান্ত্রিক৷ এরপরে অনিলবাবুর ব্যবসায় খানিক উন্নতি হয় বটে৷ তবে তার কিছুদিন পর থেকেই স্বামী স্ত্রী—এর মধ্যে ঝামেলা শুরু হয় এবং গীতাদেবী ছেলেমেয়েদের নিয়ে বাপেরবাড়ি চলে যান৷ অনিলবাবুও সল্টলেকের বাড়ি ছেড়ে দিয়ে রাজারহাটে থাকতে শুরু করেন৷ হঠাৎই তিনি জানতে পারেন যে তাদের বড় ছেলে মামাবাড়িতে নেই৷ তৎক্ষণাৎ অভিযোগ দায়ের করেন পুলিশে৷ তার এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গীতাদেবী আর ছোট ছেলে বিদুরকে গ্রেফতার করে৷

কঙ্কাল উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে এ জে ব্লকের বাড়িতে তন্ত্রসাধনার চর্চা হত৷ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দাবী বাড়ির আনাচে কানাচে তন্ত্রসাধনার হদিশ মিলেছে৷ বাড়ির ভিতরে পাওয়া গেছে কয়েকটি নকশা৷ পাশাপাশি পাওয়া গেছে একাধিক স্বস্তিক চিহ্ন ও ত্রিশুল৷ এই সবকিছুই তন্ত্রসাধনার দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছে পুলিশ৷

ফরেনসিক টিমের কথানুযায়ী বাড়ির হলঘরে দেহ পোড়ানো হয়৷ গন্ধ আটকাতে ব্যবহৃত হয়েছে কর্পূর ,ঘি,ধুনো জাতীয় জিনিস৷বাড়ির পিছন দিকে মিলেছে পোড়া কাঠের গুঁড়ো৷ তবে পুলিশের একাংশের দাবী যে তন্ত্রসাধনাকে সামনে রেখে আরও বড়ো কোনো অপরাধ চলতে পারে৷ তবে প্রশ্ন উঠছে যদি মহেন্সারিয়া দম্পতির মেয়ে থেকে থাকে,তাহলে সে কোথায় ছিল ঘটনার দিন? সল্টলেকের মতো সম্ভ্রান্ত এলাকায় কীভাবে তন্ত্রসাধনা দিনের পর দিন চলল? ছেলেকে কী তন্ত্রসাধনার জন্যই খুন করা হল? আসল উদ্দেশ্য কি তবে ছিল অন্য কিছু? এই সব প্রশ্নকে মাথায় রেখেই তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর৷