কিষাণনিধি সম্মান প্রকল্প এখনও চালু করেনি রাজ্য? মোদির আক্রমণ মমতাকে

Narendra Modi
Narendra Modi

ভোটের আগে তৃণমূল—বিজেপি সংঘাত ক্রমে বেড়েই চলেছে৷ কোনো না কোনোভাবে রাজ্য—কেন্দ্র দ্বন্দ্ব থাকছে শিরোনামে৷ ২০২১ যত এগিয়ে আসছে,ততই দু—পক্ষের রাজনৈতিক তরজাও প্রতিদিন বাড়ছে৷ অন্তত এমনটাই স্পষ্ট হল সোমবারে মোদির ভাষণ থেকে৷ বারাণসীতে হাইওয়ে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি পরোক্ষ ভঙ্গীতে এমন একটি রাজ্যের কথা বলেন যেখানে এখনও কৃষক সম্মান নিধি প্রকল্প চালু করা হয়নি৷ স্বভাবতই এই না—বলা রাজ্যের নাম যে আসলে পশ্চিমবঙ্গ তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে৷ মোদির দাবী তার জয়জয়কার হবে বলেই সেই রাজ্যটি কেন্দ্রের প্রকল্প চালু করতে চায় না৷ এমনকি এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন ভারতবাসীকে যে তারা ক্ষমতায় এলে কৃষকদের ঘরে থাকবে টাকা৷কোনো কৃষকই আর না খেতে পেয়ে মারা যাবে না৷ সকলের হাতে থাকবে অর্থ৷

মোদির বক্তব্যে মূলত তৃণমূল সরকারকেই নিশানা করা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ৷ গতকাল প্রধানমন্ত্রীর “মন কি বাত” অনুষ্ঠানে বাঙালি ভাবাবেগকে মাথায় রেখে বাংলার কবি মনোমোহন বসুর একটি কবিতা হিন্দিতে অনুবাদ করে পাঠ করেন ৷ এই কবিতার মূল বিষয়বস্তুই হল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষ থেকে বিদেশি পণ্য বর্জনের ডাক৷ এর মাধ্যমে মোদি তার আত্মনির্ভর ভারতকে আরও দৃঢ়মূল করে তুলতে চেয়েছেন এবং জোর দিয়েছেন স্বদেশী পণ্য কেনার প্রতি৷ মোদির প্রকল্পে যে কৃষকদের নয়া বিকল্প ও আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে তাও এদিন তিনি সোচ্চারে বলেন৷ তার মতে কৃষকদের যারা প্রতারণা করেছে,তারাই নাকি এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে,বিশৃঙ্খলা তৈরী করছে৷

অন্যদিকে , নবান্ন থেকে জানানো হয়েছে যে ৯ই সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে যে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু করতে চায়,এতে রাজ্যের কোনো আপত্তিই নেই৷ ইতিমধ্যে কৃষকবন্ধু প্রকল্পও চালু করেছে রাজ্য সরকার৷ যার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে অসংখ্য কৃষক ও তাদের পরিবার৷ চিঠিতে এও জানানো হয় যে, এই প্রকল্পে কৃষকরা বছরে ৫হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাওয়ার পাশাপাশি ১৮—৬০বছরের ক্ষেতমজুর বা চাষির মৃত্যুতে ২লক্ষ টাকা পায় পরিবার৷ শস্যবিমা যোজনার ১০০শতাংশ টাকা কৃষকদের দেয় রাজ্যই৷ নবান্নের তরফে বলা হয় কেন্দ্রীয় কিষাণ সম্মাননিধি প্রকল্প চালু করলে পুরো টাকাই রাজ্য সরকার যাতে পায় সেইদিককে মাথায় রাখতে হবে কেন্দ্রকে৷ রাজ্য সরকার মেশিনারির মাধ্যমে সেই টাকা উপভোক্তাদের কাছে পাঠিয়ে দেবে৷

সুতরাং,একদিকে মোদির বাংলাকে পরোক্ষ আক্রমণ এবং অপর দিকে রাজ্যের তরফে চিঠির বয়ান আসলে ভোটের প্রাক্কালে কেন্দ্র—রাজ্য সংঘাতকেই যেন আরও স্পষ্ট করে ৷