‘এই সময়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের উচিত নিজেদের ভাঁড়ার খুলে দেওয়ার। যাতে মানব কল্যাণে কাজে লাগে’: দীনেশ ত্রিবেদী

করোনা মোকাবিলায় মন্দিরের সম্পত্তি কাজে লাগানো হোক। বৃহস্পতিবার বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi) এমনই দাবি করেছেন। এদিন তিনি এ ব্যাপারে টুইট করেন। তাঁর মতে, গুরুদ্বারগুলি যেভাবে কাজ করছে, তা দেখে শেখা উচিত।

দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi) তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। তবে একুশের ভোটের আগে তিনি যোগ দেন বিজেপিতে। তাঁর দাবি ছিল, দলে দমবন্ধ হয়ে আসছে। কাজ করতে পারছিলেন না। আর তাই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত।

এদিন দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi) করোনা চিকিৎসা এবং মন্দিরের অর্থ নিয়ে দু’টি টুইট করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, এই সময়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের উচিত নিজেদের ভাঁড়ার খুলে দেওয়ার। যাতে মানব কল্যাণে কাজে লাগে। মন্দিরের কাজ হল মানুষের উপকার করা। তাদের একাংশের সম্পত্তি সারা দুনিয়ার টিকা জোগাড় করে দিতে পারে।

এর পাশাপাশি দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi) গুরুদ্বারের প্রশংসা করেছেন। মানবকল্যাণে তারা কীভাবে কাজ করেছে, সে কথা বলেন দীনেশ। অন্য একটি টুইটে লেখেন, আমাদের গুরুদ্বার থেকে দেখে শেখা উচিত। যখনই দরকার পড়েছে, তারা পথ দেখিয়েছে, নেতৃত্ব দিয়েছে। তা সে দুনিয়ার যে কোনও প্রান্তে হোক না কেন।

এদিকে, রাজ্যসভার অধিবেশনে চলাকালীনই দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi) সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। পরে যোগ দেন বিজেপিতে। তিনি ব্যারাকপুরের সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন ২০০৯ সালে। তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলন তিনি।

২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi) হেরে যান বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে। যিনি আগে ছিলেন বিজেপিতে। দীনেশ ত্রিবেদী রেলমন্ত্রী কে ছিলেন।

২০১১ সালে আটকে দিয়েছিলেন জেমস বন্ডকে! আর তার দু’বছর আগে সিপিআইএমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ সাংসদ তড়িৎ তোপদারকে। এমনই প্রভাব তাঁর।

খোলসা করে বলা যাক। প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi)-কে নিয়ে কথা হচ্ছে। সেটা ২০১১ সালের কথা। জেমস বন্ডের সিনেমা স্কাইফল-এর শুটিংয়ের কিছু অংশ এদেশে শুটিং হয়েছিল। তার মধ্যে একটি দৃশ্য ছিল ট্রেনের ওপরে হেঁটে-চলে বেড়ানো। যা ভারতীয় রেলের আইন মতে অবৈধ।

আর তাই জন্য তার শুটিং করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তখন তিনি ছিলেন রেলমন্ত্রী। যদিও তার কিছু সময় পরে মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিরোধের জেরে সেই পদ তাঁকে ছাড়তে হবে।

তার কারণ তিনি রেলের ভাড়া বৃদ্ধি করতে চেয়েছিল। কিন্তু দলের অবস্থান ছিল পরিষ্কার। কোনও মতেই রেলের ভাড়া বাড়ানো যাবে না। মানুষের ওপর চাপ তৈরি করা যাবে না।

তবে তিনি ঘোষণা করে দিয়েছিলেন রেল ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে। কিন্তু দলনেত্রী তীব্র আপত্তি জানান। এবং দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi)-কে সরে যেতে হয় রেলমন্ত্রীর পদ থেকে। তার জায়গায় এসেছিলেন মুকুল রায়।