শক্তি বাড়ানোর জন্য ভারতে ৬৫০ কোটি টাকার সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে আমেরিকা !

যত দিন যাচ্ছে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক আরো বেশি গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। যার ফলে অনেকটাই চাপে বেজিং। ভারতকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সামগ্রী দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়াল তারা । গত শুক্রবার ভারতকে ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৬৫০ কোটি টাকার মিলিটারি সরঞ্জাম পাঠানোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । তাদের সি -১৩০ জে সুপার হারকিউলিস নামের সামরিক পরিবহণ বিমানে করে সেই সমস্ত সরঞ্জাম আসবে ভারতে ।ট্রাম্প থাকাকালীন দুই দেশের প্রধান এর মধ্যে সম্পর্ক খুব ভাল ছিল।এবার বাইডেনের নেতৃত্বে ও সেটা যে আরো বৃদ্ধি পাবে সেটাই মনে করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিভাগের সুরক্ষা সহযোগিতা সংস্থা, ডিফেন্স সিক্যুরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি (ডিএসসিএ) জানায় যে, এই চুক্তির ফলে ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে ।এমনকি, এই ঘটনা আমেরিকার সঙ্গে অন্যান্য দেশের বৈদেশিক সম্পর্ককে জোরদার করতে সাহায্য করবে ৷ যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সুরক্ষাকে সমর্থন করবে ৷

বিমানের যে যে যন্ত্রাংশগুলির ক্ষেত্রে সাহায্যের জন্য ভারতের তরফ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে সেগুলি হল-বিমানের ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্রের খুচরা যন্ত্রাংশ এবং তার মেরামতির সরঞ্জাম, কার্টরিজ অ্যাকিউটেড ডিভাইস, প্রোপেল্যান্ট অ্যাকিউটেড ডিভাইসস (সিএডি / পিএডি), অগ্নি নির্বাপক কার্টিজ, উন্নতমানের রাডার সতর্কতা রিসিভার শিপসেট, ১০ লাইটওয়েট নাইট ভিশন বাইনোকুলার, ১০এএন বা এভিএস -৯ নাইট ভিশন গগল, জিপিএস, বৈদ্যুতিক যুদ্ধ সরঞ্জাম এবং ল্যাব সরঞ্জাম ।

এর আগে ২০১৬ সালের একটি বড় পদক্ষেপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সহযোগীদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উন্নতি করার উদ্দেশ্যে ভারতকে একটি “মেজর ডিফেন্স পার্টনার” হিসাবে মনোনীত করেছিল। তারপর থেকে প্রতিরক্ষার বিভিন্ন সামগ্রী আমেরিকার থেকে কিনেছে ভারত । সম্প্রতি লাদাখের সেনাদের জন্য হিমাঙ্কের নীচে তাপমাত্রা রোখার গরম কাপড় আমেরিকার কাছে চেয়ে পাঠিয়েছিল ভারত ।

এদিকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থিতিশীলতা এমনকি ভারসাম্য বজায় রাখতেও ইন্দো প্যাসিফিক ও দক্ষিণ এশীয় এলাকায় ভারতের উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের এই কেনা সরঞ্জাম কেবলমাত্র সামরিক ক্ষেত্রেই নয় বিভিন্ন দেশের সাহায্যার্থে এমনকি উদ্ধারকার্য কাজে লাগবে বলে জানিয়েছে আমেরিকা।পেন্টাগনের তরফে জানানো হয়েছে, এই সরঞ্জামগুলি ভারতীয় বিমানবাহিনী (আইএএফ), সেনাবাহিনী এবং নৌবাহিনীর পরিবহন প্রয়োজনীয়তা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত রক্ষা তো বটেই, পাশপাশি মানবিক সহায়তা এবং উদ্ধার কাজেও যথেষ্ট সাহায্য করবে ৷ লকহিড-মার্টিন কোম্পানিকে এই যন্ত্রাংশ গুলি তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে । এই অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণে ভারতকে কোনও প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না বলে জানিয়েছে পেন্টাগন ৷

ইতিমধ্যে আমেরিকার তরফ থেকে ফায়ার এক্সটিংগুইশার , বাইনোকুলার, নাইট গুগল ভিশন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, জিপিএস সহ আরো বিভিন্ন সরঞ্জাম ভারতে পাঠানো হবে। এই নিয়ে আবার পেন্টাগন জানিয়েছেন ভারতের তিন বাহিনীর ক্ষেত্রে খুবই সুবিধা হবে। তবে আমেরিকার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা হবে না এইসব যন্ত্রাংশ পাঠানোর পরে। জানা গেছে বাকি যন্ত্রাংশ ভারতে তৈরি হওয়ার কারণে সেনাবাহিনীর হাতে পেতে তেমন একটা অসুবিধা হবে না। তাই এখন আমেরিকা থেকে সেই সব সরঞ্জাম আসার অপেক্ষায় তারা।