টলিউড

“আমার বাবার খুব গর্ব হত যে আমি শালীনতা, মর্যাদা, সম্মান বজায় রেখেছি। উনি আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, আমার টুইটার বন্ধু নয়।” – মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করায় বাবাকে নিয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে স্বস্তিকাতে! মুখের উপর যোগ্য জবাব দিলেন অভিনেত্রী

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় অভিনয়ের জন্য যথেষ্ট জনপ্রিয় তথা নিজের চারিত্রিক গুণাবলীর জন্য যথেষ্ট সমালোচিতও বটে। অভিনেত্রী আবারও একবার সমালোচনার মধ্যে জড়িয়ে পড়লেন। এবারে পুজোর কার্নিভালে রেড রোডে উপস্থিত ছিলেন তিনি। একটি ক্লাবের প্রতিনিধি হয়ে অভিনেত্রী সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি শুধু মঞ্চে উঠে নিজের হিন্দু ধর্মের সংস্কৃতির খাতিরে মুখ্যমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছিলেন। আর মুখ্যমন্ত্রীও অভিনেত্রীকে মিষ্টি স্বরূপ হাতে চকলেট দিয়েছিলেন। সেটা জুড়েই দুর্গাপূজার কার্নিভাল থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে চলছে তুমুল সমালোচনা। এই সমালোচনা যেন শেষ হওয়ার নামই নিচ্ছে না।

এই সমালোচনার জেরে বাম মনোভাবাপন্ন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র স্বস্তিকা কে “খামতি দিদিমণি” বলে কটাক্ষ করেছিলেন। নেটিজেনদের মধ্যে কেউ তাকে “চটি চাটা” আবার কেউ তাকে “মেরুদণ্ডহীন” বলেও কটাক্ষ করেছেন। তবে এটুকু বলে রাখা ভালো যে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের সাথে বর্তমান রাজ্যের শাসকদলের বেশ কিছু মতপার্থক্য আগেও তৈরি হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক মতভাবের পার্থক্য হলে পুরো বিষয়টির যেমন কট্টর সমালোচনা করেছেন তেমনি তা তুলে ধরেছেন দেশের সাধারণের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। তবে এসবের মধ্যে এবার অভিনেত্রীকে তাঁর বাবা তুলে কটাক্ষ করা হলো। যদিও এসব বিষয়ে একেবারে ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নন স্বস্তিকা। নিজের সুন্দর গোছানো ভাষায় একদম সঠিক জবাব দিলেন “শ্রীমতি”।

দেবনাথ বসু নামে এক জনৈক টুইট করেন, “চুপ থাকায় আশ্চর্য! ওর বাবা নিশ্চয়ই খুব রেগে আছে (যদিও ইংরেজি ইডিয়ম Turned On His Grave ব্যবহার করেছেন। যার অর্থ কোনও প্রয়াত মানুষ রেগে গিয়েছেন বা বিরক্ত হয়েছেন বোঝানো হয়।)। পারফর্মিং আর্টিস্ট বা অভিনেতাদের যদি বিকল্প পেশা না থাকে তাহলে তাঁদের হাওয়াই চটি চাটতেই হয় পশ্চিমবঙ্গে। বেচারা”।

যদিও এর জবাবে স্বস্তিকা লিখলেন, “আমি মুসলিম নই, জন্মগতভাবে হিন্দু। আমার বাবাও তাই ছিলেন। আমাদের শরীর পোড়ানো হয় আর ছাই নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। তাই যেমন কোনও কবর নেই, তাই টর্ন করার প্রশ্নই নেই। আমার বাবার খুব গর্ব হত যে আমি শালীনতা, মর্যাদা, সম্মান বজায় রেখেছি। উনি আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, আমার টুইটার বন্ধু নয়”।

প্রসঙ্গত গত রবিবার রাতেও এই নিয়ে পোস্ট করেছেন স্বস্তিকা। যাতে লিখেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ায় তাঁকে নমস্কার করে বিজয়া জানানোটা ভদ্রতা, সৌজন্য। আমায় দুটো চকলেট দেওয়াটা ওনার ইচ্ছে, সেটা খেয়ে নেওয়াটা আমার… চকলেট নিয়েছি ইলেকশন টিকিট নয়, চকলেট খেয়েছি মোটা টাকার ঘুষ নয়। আমরা একটা সভ্য দেশে বাস করি, বর্বর নই। কাল দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলেও একই ভাবে নমস্কার করব কারণ সেটাই ঠিক”।

Back to top button