টলিউড

‘শিল্পীরা কোনদিনই সরকারের থেকে প্রাপ্য সম্মান পাননি’, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় কে হারিয়ে এক সাক্ষাৎকারে কিছু অজানা কথা ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়

সম্প্রতি কয়েকদিন আগেই আমরা আমাদের মাঝখান থেকে হারিয়েছি আমাদের সকলের প্রিয় গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় কে। তিনি ছিলেন বাঙালিদের গর্ব, অহংকার। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এর মৃত্যুর পর একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায় কিছু কথা ভাগ করে নিয়েছেন।

তিনি বলেছেন “এক সন্ধ্যার কথা হঠাৎ আমার বাড়ির দরজার কলিং বেল বেজে উঠল দরজা খুলে আমি অবাক দেখি সামনে স্বয়ং সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন আমি তাড়াহুড়ো করে কি বলবো বুঝতে না পেরে ওনাকে ভেতরে স্বাগত জানায় উনি ভেতরে আসেন। উনি দুটি গ্রামোফোন রেকর্ড আমার হাতে দিয়ে বললেন দুটি গানের রেকর্ড বেরিয়েছে ওই দুটি গানের রেকর্ডিং আমাকে উপহার স্বরূপ দিতে এসেছিলেন তিনি রেকর্ডের মধ্যে একটি গান ছিল ‘ওগো মোর গীতিময়।'”

অভিনেত্রী আরও জানান “এত বড় একজন শিল্পী আমার বাড়িতে এসেছে আমি ভাবতে পারছিলাম না কি করবো তারপর আমি উনার জন্য চা বানালাম উনি চা খেতে চাইছিলেন না তবুও চা-টা খেয়ে কোন রকম তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যেতে চাইলেন। আমি দরজা খুলে উনাকে এই দিতে যাবো ঠিক সেইসময় আমাকে কড়া শাসন করে বললেন “তুমি এতো বড় একজন অভিনেত্রী তুমি যখন তখন রাস্তাঘাটে এভাবে বেরিয়ে পড়ো না আমি শুনেছি তুমি রীতিমতো রাস্তায় বেরিয়ে বাজার হাট করো, এরকমটা করোনা।”

অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়ের বয়স হয়েছে ৮০ বছর পেয়েছে শরীরে তেমন এখন আর শক্তি নেই গলা বুজে আসছিল কথাগুলো বলতে গিয়ে। চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি বলছিলেন সঙ্গীত জগতের এক বিরাট বড় ক্ষতি হয়ে গেল পদ্মশ্রী ফিরিয়ে দিয়ে তিনি যে একদম সঠিক কাজ করেছেন সেটাও বললেন মাধবী। মাধবী মুখোপাধ্যায় বলেন, “শিল্পীরা সরকারের থেকে কোনওদিন সম্মান বা মর্যাদা পায়নি। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়,শ্যামল মিত্ররা কী পেয়েছেন?”

বাড়িতে তিনি এখন একা দুবেলা কাজ করার লোক ছাড়া আর কেউ থাকে না তার সঙ্গে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় মৃত্যুতে তিনি বেশ ভেঙে পড়েছেন সেটা তার কথাতেই স্পষ্ট। হাসপাতালে ভর্তির সময় দেখা হয়নি সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মৃত্যুর খবর হঠাৎ সাথে সত্যি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন স্বজন হারানোর কষ্ট বোধ হয়েছিল তার।

Back to top button