মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রতি ছিল গাঢ় ভালোবাসা, তাই আজীবন অবিবাহিতাই রয়ে গেলেন সাবিত্রী

উত্তম কুমার নামটা বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক অতি সুদর্শন পুরুষ। তাঁর হৃদয় বিদারক হাসি ও চাহনিতে ঘায়েল হননি এমন কোনও মহিলা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তাঁর অনবদ্য অভিনয় ও বিনয়ী স্বভাবের কারণে আজও তিনি বাঙালির মনে চির স্মরণীয়। তাঁর প্রেমে পাগল ছিলেন খোদ অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ও। মহানায়ককে ভালোবেসে সারা জীবন বিয়ে না করেই কাটিয়ে দিলেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়।

উত্তম কুমার নামটা বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক অতি সুদর্শন পুরুষ। তাঁর হৃদয় বিদারক হাসি ও চাহনিতে ঘায়েল হননি এমন কোনও মহিলা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তাঁর অনবদ্য অভিনয় ও বিনয়ী স্বভাবের কারণে আজও তিনি বাঙালির মনে চির স্মরণীয়। তাঁর প্রেমে পাগল ছিলেন খোদ অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ও। মহানায়ককে ভালোবেসে সারা জীবন বিয়ে না করেই কাটিয়ে দিলেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়।

উত্তমকুমারের মতোই ভারতীয় বাংলা ছবিটি জগতে একটি জনপ্রিয় নাম সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। ১৯৩৭সালে বাংলাদেশের কুমিল্লার কমলাপুর গ্রামে জন্মে ছিলেন অভিনেত্রী। মা-বাবার দশম ও সবচেয়ে ছোট কন্যা ছিলেন। এরপর ভারত বিভক্ত হয়ে যায়। পরিবার সহ বাংলাদেশ ছেড়ে চলে আসেন ভারতবর্ষের আজকের কলকাতায়। কলকাতায় দিদির বাড়ি টালিগঞ্জের প্রথম আস্তানা। সেখান থেকেই অভিনয়ের প্রতি টান আর অভিনয় জগতে পা রাখা শুরু।

টালিগঞ্জে আসার পর সংসারের হাল ধরতে অভিনয়ে নামেন সাবিত্রী। বাবা ছিলেন বাংলাদেশের ঢাকাতেই। কিন্তু প্রতিনিয়ত এখানে থাকা খাওয়ার জন্য টাকা পাঠাতে পারছিলেন না সাবিত্রীর জন্য। তখন নিজের জীবনে নিজেই লড়াই করে এগিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। খুব ছোট বয়সেই টাকার প্রয়োজনে অভিনয়ে নাম লেখান। সেই সময় নাটকের জন্য নতুন মুখশ্রীর খোঁজে ছিলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। কপালের জোরে পছন্দ হল সাবিত্রীকে, এরপর ‘নতুন ইহুদি’ নামের নাটক দিয়েই শুরু হল অভিনয়ের পথে পথ চলার।

ধীরে ধীরে নাটকের মঞ্চে নিজের দখল বাড়াতে থাকেন। এরপর ১৯৫১ সালে রুপোলি পর্দায় আসার সুযোগ পান। ‘সহযাত্রী’ ছবি দিয়ে হাতে খড়ি হয় রুপোলি পর্দায়। ছবিতে মহানায়ক উত্তমকুমারের সাথে পার্শ্ব নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন সাবিত্রী। প্রথম দেখাতেই হয়তো মন দিয়ে বসেন উত্তম কুমারকে। এরপর একাধিক ছবিতে মহানায়কের সাথে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। যার মধ্যে বেশ কিছু ছবি হল – ‘রাতভোর’, ‘নিশিপদ্ম’. ‘ধন্যি মেয়ে’ ইত্যাদি।

তিনি যে উত্তম কুমারকে ভালবেসেছিলেন, একথা অকপটে স্বীকারও করেছেন সাবিত্রী। বলেছিলেন, “প্রেম খানিকটা ছিল, তবে বেশিরভাগটাই রটনা”। এও রটেছিল যে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে বিয়ে করে উত্তম কুমার নাকি তাঁকে বালিগঞ্জে বাড়ি ভাড়া নিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু এটা আদপেও সত্যি নয়।

অভিনেত্রী এও বলেছেন যে উত্তম কুমার নাকি নিজেই অনেকবার সাবিত্রীর বিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন। হয়ত তিনি চাননি যে সাবিত্রী অন্য কারোর হয়ে যান। তবে উত্তম কুমারের সঙ্গে গৌরীদেবীর সংসার ভেঙে যাওয়ায় বেশ কষ্ট পেয়েছিলেন সাবিত্রী, একথাও জানান তিনি। মহানায়কের প্রতি তাঁর অন্যরকমের ভালোবাসার টান ছিল। তাই তো তাঁর মৃত্যুর পর বেশ ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। এরপর কারোর সঙ্গেই সেভাবে জুটি বেঁধে অভিনয় করতে দেখা যায়নি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে।