বিনোদন

‘স্টুডিওতে এ বসে খালি আঁতেল মার্কা কথাবার্তা! তোর বউকে আমার সাথে মিশিয়ে দে’, এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কটূক্তির শিকার মিরচি অগ্নি

মিরচি অগ্নি, সানডে সাসপেন্স শুনতে গেলেই মীর এরপর যার কথা সবার প্রথম মনে আসে সে হলো মিরচি অগ্নি। সানডে সাসপেন্স হোক কিংবা প্রেম ডট কম, অগ্নি সব জায়গাতেই বিরাজমান। সব রকম আবহের সাথে যেমন মীরের গলা ভালো মানায় ঠিক তেমনই ভালো মানায় অগ্নির গলাও।

সামাজিক মাধ্যম জনপ্রিয়তা পাওয়ার দরুন এখন রেডিও ছেড়ে সবই সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। আগে যেমন সানডে সাসপেন্স শোনার জন্য অধীর আগ্রহে রেডিও চালিয়ে মানুষ বসে থাকতো, এখন সেইসব এর যুগ ফুরিয়ে এসেছে ইউটিউব এর যুগ।

যখন খুশি যেখানে খুশি নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো একটি সানডে সাসপেন্স এপিসোড চালিয়ে কানে হেডফোন গুঁজে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতে পারেন শ্রোতারা। মাঝে মাঝেই দেখা যায় অগ্নি নানারকম ভিডিও পোস্ট করে থাকেন সামাজিক মাধ্যমে। বিশেষত যেকোনো অনুষ্ঠানে নিজের মতন করে ভিডিও বানান তিনি।

তবে ঈদ উপলক্ষে ভিডিও বানিয়ে চরমতম নোংরা কটূক্তির শিকার হতে হল অগ্নিকে। সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় তারপরেই কটুক্তি যে পিছনে ছাড়ছে না তা বারংবার সামনে এসেছে। ‘মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম, হিন্দু-মুসলমান’ এইবার এই ভাবনাকে আরো একবার তুলে ধরার জন্য ভিডিও বানিয়ে ছিলেন মিরচি অগ্নি।

সেই ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘ঈদের সিমুই মিশে যাক অষ্টমীর খিচুড়িতে।’ এটাই তার ভুল ছিল। এই ভুলের কারণেই তাকে দিতে হলো ভুলের মাশুল। কমেন্ট বক্সে সুপার সাইক্লোন এর মত ধেয়ে এলো একদল তথাকথিত সমাজের সভ্য ভদ্র হিন্দু ভাববাদী মানুষ।

ভিডিও একটু এগোতেই এক মিনিট পঞ্চান্ন সেকেন্ডের মাথায় তিনি বলেছেন, “দেখতে দেখতে ধর্ম কেমন উৎসবে পরিণত হয়, এই শহরে, আজ ওআরএস রহমানের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মেলাবেন বীরবল রুদ্রেন্দুরা।” তবে রাম রহিমকে এক করতে চাইলেও কিছু তথাকথিত সভ্য মানুষ এক করতে দিতে নারাজ রাম রহিমদের।

এই ভাবাবেগকে উস্কে দিয়ে, একদল নেট নাগরিক কমেন্ট করে বসেছেন, ‘রেকর্ডিং স্টুডিওতে বসে এইসব আঁতলামি মার্কা ভাষণ না দিয়ে একবার মেটিয়াবুরুজ খিদিরপুর ঘুরে আয়… তাহলেই বুঝতে পারবি শিমুই এটা হল ভাওতাবাজি। আসলে বইছে রক্তের বন্যা।”,”ভাই তুমি কি রসগোল্লার রসে আলুর দম ডুবিয়ে খাও? কিংবা ইলিশ ভাপাতে কেক মাখিয়ে? তাহলে খিচুড়ির মধ্যে সিমুই মেশানোর উদ্ভট আইডিয়া কেন? তোমাদের এইসব বাস্তব সেক্যুলার পদ এমনিতেও লোকে আজকাল খাচ্ছে না।” এছাড়াও একজন বলেছেন, “তোর বউ আমার সাথে মিশে যাক।”

তবে সবাই যে শুধু কটুক্তি করেছে তাই নয়, অনেকেই অগ্নির এই উদার ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, “দাদা তুমি সেরা।” আবার অন্য কেউ বলেছেন, “ইচ্ছা করছে তোমাকে একটু শিমুই খাইয়ে আসি।”, “তোমার জন্য অনেক ভালোবাসা দাদা তোমাকে ঈদ মোবারক।”

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!
Back to top button