‘আমার বাবা চারটে বিয়ে, ডিভোর্সের পরেও প্রেমে পড়া যায়’, অকপটে স্বীকার পূজা বেদীর

অভিনেতা কবীরের প্রথম স্ত্রী ওড়িশি নৃত্যশিল্পী প্রতিমা বেদীর প্রথম সন্তান পূজা বেদী। প্রতিমা বেদীর সাথে কবীরের সেই বিয়ে বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৭৪ সালে প্রতিমা গুপ্তার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল অভিনেতা কবীরের। এর পরবর্তীতে সুসান হামফ্রেজকে বিয়ে করেন কবীর। দশ বছর পর সেই বিয়েতে ভাঙন ঘটে। এই বিয়ে ভাঙার দু বছর পর নিকি বেদীকে বিয়ে করেন তিনি। ২০০৫ সালে এই বিয়েতে ভাঙন ঘটে। ২০০৫ সালে নিকির সঙ্গে তাঁর অফিসিয়ালি ডিভোর্স হয়। এরপর পরভিন দুসাঞ্জের সঙ্গে প্রেম শুরু কবীর বেদীর। ২০১৬ সালে নিজের ৭০তম জন্মদিনে পারভিন দুসাঞ্জকে বিয়ে করেন বলিউডের এই ভিলেন কবীর। মোট চারবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এই অভিনেতা।

কবীরের প্রথম এবং আদুরে কন্যা পূজা বেদী। বয়স যখন ২৪ তখন নিজের কেরিয়ারের মাঝে সাত পাকে বাঁধা পড়েন ফারহান ফার্নিচারওয়ালার সাথে। বিয়ের পর দুই সন্তানের মা হয়েছেন পূজা। তবে বাবার মতো অভিনেত্রীর এই বিয়ে টেকেনি। বিয়ের ৯ বছরের মধ্যে ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়ে যায় পূজা ও তাঁর স্বামীর । এরপর মেয়ে আলিয়া ও ছেলে ওমরকে একা হাতে মানুষ করেছেন অভিনেত্রী পূজা। অভিনেত্রী ননিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে কিছু কথা শেয়ার করলেন। নিজের ডিভোর্স নিয়ে কথা খোলসা করলেন অভিনেত্রী।

কবীর বেদী কন্যা জানান, তিনি যখন তাঁর স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের কথা ভাবেন সেই সময় বহু মানুষ তাঁকে নানান উপদেশ দিয়েছিলেন। সকলের মুখে একটাই কথা বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন তিনি। ছেলেমেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেম তিনি। সেই সময়ে মানুষের মধ্যে বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স নিয়ে নানান ছুৎমার্গ ছিল। তবে পূজা স্থির ছিলেন তার পক্ষে কোনোভাবে ফারহানের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

তিনি সেই সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, ডিভোর্স নিয়ে সমাজের মানুষের কাছে এক এক রকম মানসিকতা রয়েছে। এখন চিন্তাভাবনা পাল্টালেও ১৮ বছর আগে এই জিনিসটি বেশ মারাত্মক ছিল। লোকে মনে করতেন বিয়ে ভেঙে জীবনে এগিয়ে চলাটাকে অনেক কিছু। অভিনেত্রীকে এও বলা হয়েছিল, তিনি তো একা নন, তার সঙ্গে বোঝা রয়েছে। তিনি বলেছিলেন, তাঁর ছেলেমেয়েরা কোনো বোঝা নয় বরং তারা অভিনেতার সম্পদ।

এমনকি নিজের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, তিনি যে পরিবারে বড় হয়েছেনন তাঁর বিয়েতে হয়তো কিছুটা সেই প্রভাব পড়েছিল। তাঁর বাবা মায়ের বিয়েও ভেঙেছিল। ডিভোর্সের পরেও নতুন করে ভালোবাসা যায়। তাঁর বাবা চার বার বিয়ে করলেও তাঁর বাবা-মা দুজনেই পূজাকে নিজের জীবনের সঙ্গে জুড়ে রেখেছেন। তবে অভিনেত্রীর জীবনে পঞ্চাশের বয়সের রেখা পেরোতে নতুন বসন্ত পা রেখেছে। গোয়ার এক জন স্থায়ী ব্যবসায়ী মানেক কন্ট্রাক্টরের প্রেমে পড়েছেন পূজা। প্রেমিকের সঙ্গে ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারির প্রেমের মাসে এনগেজমেন্ট সেরেছিলেন পূজা। এখন বেশিরভাগ সময়টাই প্রেমিকের সঙ্গে গোয়ায় কাটান নায়িকা পূজা।