ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত কিরণ খের, স্ত্রীর জন্য প্রার্থনা ভিক্ষা চেয়ে আবেগি পোস্ট অনুপম খেরের

অনুপম খের হলেন একজন ভারতীয় অভিনেতা যিনি প্রায় ৪০০টি ছবিতে এবং অনেকগুলো নাটকে অভিনয় করেন। প্রধানত হিন্দি ছবিতে কাজ করার সুবাদে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি তারকা শাহরুখ খানের সহিত অনেকগুলো হিন্দি ছবি যেমন ডর (১৯৯৩); দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে (ডিডিএলজে) (১৯৯৫); চাহাত (১৯৯৬); কুছ কুছ হোতা হ্যায় (১৯৯৮); মোহাব্বতে (২০০০) এবং ভীর জারা (২০০৪) ছবিগুলোতেও অভিনয় করেন। এছাড়া তিনি একাধারে অভিনেতা ও পরিচালকও ছিলেন। ‘মে গান্ধী কো নেহি মারা’ (২০০৫) এই ছবিটিতে তিনি পরিচালনা ও অভিনয় করেন। তাঁর অবদানের জন্য তিনি করাচি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল (কারা ফিল্ম ফেস্টিভাল)-কর্তৃক সেরা অভিনেতার পুরস্কার লাভ করেন।

এছাড়া বাস্তব জীবনে ১৯৮৫ সালে অণুপম খের তার চেয়ে কনিষ্ঠ অভিনেত্রী কিরণ খেরকে বিয়ে করেন। তাঁদের পুত্র হলেন সিকান্দার খের। তবে অণুপম খের তাঁর স্ত্রী কিরণ খেরের সঙ্গে, একটি ছবি করেন যেখানে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেন। ফিরোজ আব্বাস খান কর্তৃক পরিচালিত অণুপম খেরের নিজের লিখা এবং অভিনয় করা আত্মজীবনী মূলক অনুষ্ঠান “দ্য অণুপম খের শো – কুছ ভি হো সাক্তা হ্যায়” তিনি সঞ্চালনা করেন। এছাড়া ভারতীয় চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে চেয়ারম্যান পদে তিনি এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ২০০৯ সালে অণুপম খের ডিজনি পিক্সারের থ্রিডি এনিমেশন ছবি আপ (২০০৯ ছবি)র কার্ল ফ্রেডরিকসন চরিত্রে কন্ঠ প্রদান করেন, যা ছিল তাঁর করা জীবনের প্রথম ডাবিং চরিত্র। সম্প্রতি দেখা গিয়েছিলো ‘‘দ্য ডার্টি পলিটিক্স’’ ছবিতে।

তবে আজ তাঁকে নিয়ে আলোচনা করার কারণ তো আছেই! তবে আজ আমাদের আলোচ্য বিষয় অনুপম খের এর স্ত্রী কিরণ খেরকে যিনি বর্তমানে ব্লাড ক্যান্সারের পেসেন্ট। এই কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে নিজে জানালেন অনুপম খের। যদিও এর আগে স্ত্রীর অসুস্থতার কথা এইভাবে জানাননি তিনি। এই প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে তাঁর অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে অনুপম খের জানান যে, “তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী কিরণ খেরের ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়েছে। কিছুদিন আগে থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল কিরণের শারীরিক অবস্থা নিয়ে৷ তবে কোনও গুজব নয়, কিরণ ভুগছেন মাল্টিপল মায়লোমায়৷ এটা একটি ধরনের ব্লাড ক্যান্সার৷ আপাতত তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং আমরা নিশ্চিত যে কিরণ এই যুদ্ধ জয়ী হবেন৷ কিরণ খুবই সাহসী মানসিকতার এবং লড়াকু৷ আমরা খুবই ভাগ্যবান যে কিরণের চিকিৎসা করছেন খুব যোগ্য চিকিৎসকরা৷ কিরণ খুব বড় মনের মানুষ, তাই অসংখ্য মানুষের ভালবাসা পেয়েছেন তিনি৷ তাঁর জন্য আর্শীবাদ ও প্রার্থণা করুন, যাতে তিনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন৷” ৬৮ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী, যিনি রক্ত ​​ক্যান্সারে লড়াই করছেন, তবে চার মাস আগে তার হাত ভেঙে যাওয়ার পরেই এই রোগ ধরা পড়ে তাঁর। বর্তমানে কিরন খের পাঞ্জাবে চিকিৎসারত।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Bombay Times (@bombaytimes)

প্রসঙ্গত, কিরণ খের তার অভিনয় জীবনে দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন, প্রথমবার সর্দারী বেগম (১৯৯৬) চলচ্চিত্রের জন্য বিশেষ জুরি পুরস্কার এবং দ্বিতীয়বার বাড়িওয়ালি (২০০০) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার। এছাড়া তিনি একাধিক ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাদের মধ্যে, ‘দেবদাস’ (২০০২), ‘ম্যাঁয় হুঁ না’ (২০০৪), ‘হাম তুম’ (২০০৪), ‘বীর-জারা’ (২০০৪) এবং ‘মঙ্গল পাণ্ডে: দ্য রাইজিং’ (২০০৫), ‘রং দে বাসন্তী’ (২০০৬), ‘ফনা’ (২০০৬) ও ‘কভি আলবিদা না কেহনা’ (২০০৬), ‘ওম শান্তি ওম’ অন্যতম।

তবে অনুপম পত্নী যে শুধু যে বড় পর্দায় নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন তা নয়, তিনি অভিনেত্রীর পাশাপাশি ছিলেন ব্যাডিমন্টন খেলোয়াড়। এমনকি শোনা যায়, তিনি বলিউড ডিভা দীপিকা পাড়ুকনের বাবা প্রকাশ কাড়ুকনের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাডিমন্টন খেলেছিলেন। এছাড়া কিরন খেরকে কয়েকটি রিয়েলিটি শোতে জর্জের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। তবে সবার শেষে একটা কথাই বলার কিরন খের এমন একজন অভিনেত্রী যাকে বরাবরই শাড়িতে দেখা যা, অন্যান্য পোশাকেও তাকে দেখা গিয়েছে কিন্তু শাড়ী তাঁর অত্যন্ত পছন্দের পোশাক বলে যেকোনো অনুষ্ঠানে তাকে একসে বারকে এক শাড়িতে দেখা যায়।