বাংলা সিরিয়াল

‘জন্মাষ্টমীতে এ কি দেখলাম! গল্প কাস্টিং উপস্থাপনা কোনটাই ঠিকঠাক নয়! পুতনাকে দেখে তো হাসি পাচ্ছে’! স্টার জলসার জন্মাষ্টমী দেখে ক্ষোভ উগরে দিলেন নেটিজেনদের একাংশ!

শ্রীকৃষ্ণের জন্ম মহোৎসব নিয়ে যে অনুষ্ঠান তাই জন্মাষ্টমী, এই জন্মাষ্টমী নিয়ে ভক্তদের অনেক আশা। দুরাচারি কংসকে বধ করতে দেবকীর গর্ভে জন্মেছিলেন স্বয়ং নারায়ন। অষ্টম সন্তান নারায়ণের জন্মের আগে ছয় সন্তানকে বধ করেছিলেন কংস। দেবকীর সপ্তম সন্তানকে দেবতারা স্থানান্তর করেন রোহিণীর গর্ভে আর কংসের রক্ষীরা দেখে দেবকীর সপ্তম গর্ভপাতের দ্বারা নষ্ট হলো। যখন দেবকীর গর্ভে অষ্টম সন্তান জন্ম নেয় তখন দৈব বাণী অনুসারে দেবকীর স্বামী বসুদেব সেই সন্তানকে নন্দ গৃহে যশোদার আলয়ে রেখে আসে।

ভগবানের কৃপায় সেই দিন বসুদেবের হাতের শেকল আপনা আপনি খুলে গিয়েছিল। খুলে গিয়েছিল কারাগারের দরজা। ঘুমিয়ে পড়েছিলেন সকল প্রহরীরা। অশান্ত যমুনা শান্তভাবে পার হয়ে যেতে দিয়েছিলেন বসুদেবকে আর সর্বশেষে নন্দ গৃহে নন্দ রানী থেকে শুরু করে সকলেই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। এরপর নন্দ রানীর কন্যার সাথে নিজের শিশু পুত্রের বদল করে পুনরায় কারাগারে ফিরে আসেন বসুদেব। এই কন্যা সন্তানকে যখন কংস হত্যা করতে যায় তখন দৈববানী হয় ‘তোমার এ বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে’- এরপর যথাসময়ে কৃষ্ণ বলরাম (দেবকীর সপ্তম গর্ভের সন্তান)সমেত কংস কে বধ করতে আসেন ও কংসকে বধ করে তিনি নিজের পিতা-মাতাকে মুক্ত করেন।

জন্মাষ্টমী তিথিতে এই চির পরিচিত কাহিনী কে নতুন করে দেখিয়েছিল স্টার জলসা। কিন্তু এই ধারাবাহিক দেখার পর দর্শকদের মধ্যে থেকে একাধিক অভিযোগ শোনা যেতে শুরু করল। কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখলেন,‘জন্মাষ্টমীতে এ কি দেখলাম?’কেউ বা লিখলেন,‘হ্যাঁ,পুতনা বধটা ভুজুংভাজুং দেখালো।তারমধ্যে সেলুন থেকে মাথার চুল সেভ করে আসা নারায়ণ’। অনেকেরই বক্তব্য ছিল এডিটিং থেকে কাস্টিং এবং গল্প কোনটাই খুব একটা ভালো হয় নি। বসুদেবের চরিত্রে সব্যসাচী এবং দেবকীর চরিত্রে অনামিকাকে ছাড়া সেভাবে কোন কাস্টিং কে খুব একটা ভালো লাগছিল না। নন্দরাজের চরিত্রে ছিলেন গঙ্গারাম খ্যাত অভিষেক আর যশোদার চরিত্রে ছিলেন খুকুমণি হোম ডেলিভারি খ্যাত দীপান্বিতা। একজন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেন যে, জন্মাষ্টমীতে বলরামের স্থানান্তর দেখায়নি, স্টোরিতে কোন রকমে পুতনা বধ এবং কৃষ্ণের মুখের মধ্যে বিশ্বরূপ দেখিয়ে শেষ করেছে। কিন্তু চেনা পরিচিত সেই কাহিনী খুব একটা ভালোভাবে উপস্থাপন হয়নি বলেই দর্শকদের এক অংশের মানুষ অভিযোগ করছেন।

একজন লিখেছেন, ‘আয়েন্দ্রীকে পুতনা বানিয়েছে কি হাস্যকর লাগছে!’আর একজন আবার লিখেছেন,“নারায়নের চুল,যশোদার সাজসজ্জা,এডিটিং,মা যোগমায়ার ওই হাসি,পুতনা বধ সবকিছুই আমার অদ্ভুত লাগল,ভাবলাম ১.৫ ঘন্টার সকলের জানা শো একটু আকর্ষনীয় ভাবে উপস্থাপনা করবে।কোথায় কী!”

Back to top button