বাংলা সিরিয়াল

ক্লান্ত ঐন্দ্রিলা! আরও কঠিন লড়াই করে যাচ্ছেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা, ক্যান্সারে আক্রান্ত ঐন্দ্রিলার শারীরিক অবস্থা জানিয়ে আগেবপ্রবণ ছায়াসঙ্গী সব্যসাচী

টেলিভিশনের ছোটপর্দার অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা কে আপনারা সকলেই চেনেন। সম্প্রতি বেশ কয়েক মাস ধরেই মারণ রোগ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন ঐন্দ্রিলা এবং তার পাশে রয়েছেন তার সব থেকে কাছের বন্ধু এবং প্রেমিক সব্যসাচী চৌধুরী।

গত কয়েকমাসে অনেক পরিবর্তন এসেছে জীবনে, এসেছে অনেক নতুন চ্যালেঞ্জ, ঝড় বয়ে গিয়েছে দুজনের জীবনেই। সামনে কঠিন লড়াই আর এই লড়াইয়ে ঐন্দ্রিলার পাশে রয়েছেন বন্ধু তথা প্রেমিক সব্যসাচী চৌধুরী, বন্ধুর বিপদের দিনে তার মনের জোর বাড়াতে শক্ত ভাবে তার হাত ধরেছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই ‘জিয়ন কাঠি’র নায়িকা জানতে পেরেছিলেন তাঁর শরীরে ফিরে এসেছে মারণরোগ ক্যানসার। প্রথমে ফুসফুসে টিউমার ধরা পড়ে, পরে জানা যায় সেটি ক্যানসারাস। ক্যানসারের সঙ্গে ঐন্দ্রিলার লড়াই এর সম্পর্কটা বেশ পুরোনো। আজ থেকে ৫ বছর আগে ২০১৫ সালে একাদশ শ্রেণিতে পড়বার সময় প্রথমবার ক্যানসার আক্রান্ত হয়েছিলেন ঐন্দ্রিলা। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে লড়াই চালিয়ে গেছেন তিনি, তারপর স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন, জয়ী হন যুদ্ধে। মন শক্ত করে গত তিন মাস যাবৎ লড়াই করছেন, কেমোথেরাপি চলছে। তবে নিজের ক্যারিয়ারে থেমে থাকেনি তিনি, শ্যুটিংও করেছিলেন সেইসব এর মধ্যেও, এতটাই মনের জোর ঐন্দ্রিলার।

ঐন্দ্রিলার শারীরিক অবস্থার কথা শুনে সকলেই তার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন, তার অসংখ্য ভক্ত, কাছের মানুষ। সব্যসাচী সম্প্রতি তার একটি পোস্টে ঐন্দ্রিলার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন, তিনি এও বলেন যে কিভাবে ঐন্দ্রিলা বাচ্চাদের মতন আচরণ করেন।

অভিনেতা বলেছেন যে ” আমরা প্রতি মাসে একটি নতুন মাস শুরুর অপেক্ষায় থাকি, ঐন্দ্রিলা শুয়ে শুয়ে টিভি সিরিয়াল গুলো মাঝে মধ্যে দেখে, তবে বেশিক্ষণ দেখতে চায়না, এর মনের ভিতর একটা ঝড় চলে, অভিনয় বড্ড ভালোবাসে আর যখন দেখে ওর আশে পাশের সব বন্ধুরা চুটিয়ে অভিনয় করছে ওর ভিতরটা কষ্টে ফেটে যায়। তবে বর্তমানে একটা ধারাবাহিক নিয়ম করে দেখে, আর সেটি হলো ধুলোকনা। এটা ওর প্রিয় একটি ধারাবাহিক। লালন আর মিমি দিদি ওর প্রিয় চরিত্র, মাঝে মধ্যেই আমায় মিমি দিদির চরিত্রে অভিনয় করে দেখায়। তবে আমার অভিনীত ধারাবাহিক খুব একটা দেখে না, ওর কথায় আমিও বেশিদিন অভিনয় করলে বামা খ্যেপার মত পাগল হয়ে যেতে পারি”।

অনেকদিন ধরেই সব্যসাচী এবং ঐন্দ্রিলার সম্পর্কের কথা ঘুরে বেড়াচ্ছে টলিউডের এদিক-ওদিক। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে দুজন একসঙ্গে ক্যামেরায় ধরা দিয়েছেন, তবে কখনোই নিজেদের সম্পর্কে সেরকমভাবে সীলমোহর দেননি দুজনের একজনও। ঐন্দ্রিলার অসুস্থতার পরই সব্যসাচী এবং তার সম্পর্কের কথা সকলের সামনে প্রকাশ্যে আসে তবে ঐন্দ্রিলা জানান সব্যসাচী তার প্রেমিক হওয়ার আগেও একজন খুব ভালো বন্ধু।

গত ফেব্রুয়ারীতে ঐন্দ্রিলা দিল্লির একটি নামী হসপিটালে ভর্তি হয়েছেন। তারপর সেখানেই তাঁর কেমো শুরু হয় প্রথম কেমো নেওয়ার পরে অভিনয় ফিরে আসে ঐন্দ্রিলা। নারী দিবসে তিনি নিজেকে নতুনভাবে ক্যামেরার সামনে ধরে তুলে ধরেন তিনি। এরপর একের পর এক কেমো চলতে থাকে, চুলের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে। এরপর আস্তে আস্তে তিনি নিজের পুরো চুল কেটে ফেলেন সেই ছবি আমরা তার ইনস্টাগ্রামে দেখতে পেয়েছি। সব্যসাচী সঙ্গে নিজের ছবি দিয়ে তিনি লেখেন “নারীর সৌন্দর্য তার চুলে এবার থেকে আর নয়, নতুন ভাবে নিজেকে চিনতে শিখেছি”।

কি দারুন ভাবে মারণ রোগের সঙ্গে হাসিমুখে লড়াই করা যায় সেটির জলজ্যান্ত প্রমান হলেন ঐন্দ্রিলা। তাকে দেখে সকলেরই মনে আত্মবিশ্বাস জন্মেছে, জন্মেছে লড়াই করার ক্ষমতা সমস্ত ক্যান্সার রোগীর কাছে ঐন্দ্রিলা যেন একটি ইনস্পিরেশন।

Back to top button